ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

বাংলাদেশকে বিপজ্জনক বর্জ্যের ভাগাড় হতে দেওয়া যাবে না: পরিবেশ উপদেষ্টা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বাংলাদেশকে বিপজ্জনক বর্জ্যের ভাগাড় হতে দেওয়া যাবে না। তিনি এ লক্ষ্যে জাহাজ ভাঙা শিল্পে কঠোর পরিবেশ আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জরুরি সংস্কার না হলে বাংলাদেশ বিপজ্জনক বর্জ্যের বিশ্বব্যাপী ভাগাড়ে পরিণত হবে।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি জাহাজ ভাঙা শিল্পের মানবিক ও পরিবেশগত ক্ষতির দিক তুলে ধরে বলেন, এ শিল্প মানবজীবনের বিনিময়ে চলতে পারে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জোয়ারভাটা অঞ্চলে জাহাজ ভাঙার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এ সিদ্ধান্তকে জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদি এ শিল্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে না চলে, তাহলে এটি টিকিয়ে রাখার কোনো যুক্তি নেই। আমি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে বাংলাদেশকে বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায় এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, জাহাজ ভাঙা শিল্পে শ্রমিকরা ঝুঁকির মুখে থাকেন। অথচ তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। তিনি পোশাক শিল্পের সঙ্গে জাহাজ ভাঙা শিল্পের তুলনা করে বলেন, পোশাক শিল্পে বিদেশি ক্রেতারা শ্রমমান বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু জাহাজ ভাঙা শিল্পের মালিকরা তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যান।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে দেশে ইস্পাতের বেশিরভাগ চাহিদা বিদেশ থেকে পূরণ হয়, সে দেশে এত ঝুঁকি নিয়ে কেনো জাহাজ ভাঙতে হবে? তিনি জানান, একদিনেই একটি কোম্পানি চারটি দেশ থেকে অনুমোদন নথি জোগাড় করে জাহাজ ভাঙার জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।

তিনি দূষণকারী দায় বহন করবে নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পরিবেশ আইন কার্যকর না হলে, এই শিল্প কেবল ‘সবুজায়নের’ নামে বৈধতা পাবে। তিনি জানান, ইউরোপের কোম্পানিগুলো জাহাজগুলোকে ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রের নামে নিবন্ধন করে বাংলাদেশে পাঠায়। ইউরোপের কোনো দেশে কি সমুদ্রতটে জাহাজ ভাঙার অনুমতি দেওয়া হতো? তাহলে বাংলাদেশে কেন এই বৈষম্য?

তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় কীভাবে পরিবেশগত আইন লঙ্ঘন সত্ত্বেও জাহাজ ভাঙার অনুমতি দিচ্ছে? কিছু শিপইয়ার্ড এখনো বৈধ পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কাজ করছে, যেখানে সম্প্রতি একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, আমাদের শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বক্তব্য দেন।

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

বাংলাদেশকে বিপজ্জনক বর্জ্যের ভাগাড় হতে দেওয়া যাবে না: পরিবেশ উপদেষ্টা

প্রকাশিত ০৪:৩৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বাংলাদেশকে বিপজ্জনক বর্জ্যের ভাগাড় হতে দেওয়া যাবে না। তিনি এ লক্ষ্যে জাহাজ ভাঙা শিল্পে কঠোর পরিবেশ আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জরুরি সংস্কার না হলে বাংলাদেশ বিপজ্জনক বর্জ্যের বিশ্বব্যাপী ভাগাড়ে পরিণত হবে।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি জাহাজ ভাঙা শিল্পের মানবিক ও পরিবেশগত ক্ষতির দিক তুলে ধরে বলেন, এ শিল্প মানবজীবনের বিনিময়ে চলতে পারে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জোয়ারভাটা অঞ্চলে জাহাজ ভাঙার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এ সিদ্ধান্তকে জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদি এ শিল্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে না চলে, তাহলে এটি টিকিয়ে রাখার কোনো যুক্তি নেই। আমি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে বাংলাদেশকে বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায় এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, জাহাজ ভাঙা শিল্পে শ্রমিকরা ঝুঁকির মুখে থাকেন। অথচ তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। তিনি পোশাক শিল্পের সঙ্গে জাহাজ ভাঙা শিল্পের তুলনা করে বলেন, পোশাক শিল্পে বিদেশি ক্রেতারা শ্রমমান বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু জাহাজ ভাঙা শিল্পের মালিকরা তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যান।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে দেশে ইস্পাতের বেশিরভাগ চাহিদা বিদেশ থেকে পূরণ হয়, সে দেশে এত ঝুঁকি নিয়ে কেনো জাহাজ ভাঙতে হবে? তিনি জানান, একদিনেই একটি কোম্পানি চারটি দেশ থেকে অনুমোদন নথি জোগাড় করে জাহাজ ভাঙার জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।

তিনি দূষণকারী দায় বহন করবে নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পরিবেশ আইন কার্যকর না হলে, এই শিল্প কেবল ‘সবুজায়নের’ নামে বৈধতা পাবে। তিনি জানান, ইউরোপের কোম্পানিগুলো জাহাজগুলোকে ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রের নামে নিবন্ধন করে বাংলাদেশে পাঠায়। ইউরোপের কোনো দেশে কি সমুদ্রতটে জাহাজ ভাঙার অনুমতি দেওয়া হতো? তাহলে বাংলাদেশে কেন এই বৈষম্য?

তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় কীভাবে পরিবেশগত আইন লঙ্ঘন সত্ত্বেও জাহাজ ভাঙার অনুমতি দিচ্ছে? কিছু শিপইয়ার্ড এখনো বৈধ পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কাজ করছে, যেখানে সম্প্রতি একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, আমাদের শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বক্তব্য দেন।