ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির Logo কুবিতে মুরাদনগর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও মিলনমেলা Logo ঢাকেবির অধ্যাদেশের পক্ষে চার ছাত্র সংগঠনের সংহতি প্রকাশ Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্র্যান্ট পেল কুবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ইউরোপীয় ইউনিয়ন–সমর্থিত এজাইল (AGILE) প্রকল্পের অধীনে ‘সাংবাদিকতায় চাপ ও ট্রমা ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কোর্স বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে কোর্সটি যৌথভাবে নকশা ও বাস্তবায়নের জন্য বিভাগটিকে দুই বছরে পাঁচ হাজার ইউরো অর্থসহায়তা দেয়া হবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোর্সটির একাডেমিক সহায়তা, পাঠ্য-উপকরণ ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেবে সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশে উদ্যোগটির সমন্বয় করছে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষকদের নেটওয়ার্ক (সিজেইএন)। এই কোর্সের মূল লক্ষ্য হলো সংকট, দুর্যোগ, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা ট্রমা-সংশ্লিষ্ট ঘটনা কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের যে মানসিক চাপ ও মানসিক আঘাতের অভিজ্ঞতা হয়, তা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তোলা।

সিজেইএন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর উপ-উপাচার্য ড. জুড উইলিয়াম জেনিলো এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশা মানেই চাপ, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি। মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক সরাসরি সহিংসতা, দুর্ঘটনা, শোক ও ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি দেখেন, আবার অনলাইন হয়রানি, মামলা-জটিলতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রতিষ্ঠানের চাপও মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মানসিক চাপ সামলানোর ভাষা, কৌশল এবং সহায়তা-ব্যবস্থার কথা আমাদের পাঠ্যক্রমে খুব কমই আসে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু ‘খবর করা’ শেখালেই হবে না; শেখাতে হবে কীভাবে তারা মানসিকভাবে স্থিত থাকবে, কীভাবে ভুক্তভোগীর প্রতি সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল থাকবে, কীভাবে ট্রমা-সংশ্লিষ্ট কাজের পর নিজেকে গুছিয়ে নেবে, এবং প্রয়োজনে সহায়তা চাইবে। এই উদ্যোগ সাংবাদিকতা শিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করবে এবং ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের জন্য সুস্থ কর্মজীবনের ভিত তৈরি করবে। আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সহ যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতনিধিরা এই প্রজেক্টের জন্য নির্বাচিত হয়েছে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ফান্ড প্রাপ্তি সম্পর্কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা এই প্রজেক্টটি পেয়ে সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ বিশ্বাস করে, সাংবাদিকতায় ট্রমা ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের পেশাগত সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকতা শিক্ষার জন্য সময়োপযোগী এবং জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, প্রকল্পটির লক্ষ্য ও রূপরেখা অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে বাস্তবায়ন করব। গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবভিত্তিক শেখার সমন্বয়ে সাংবাদিকদের মানসিক সুস্থতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আমরা কাজ করব। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞানচর্চা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং টেকসই সাংবাদিকতার জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

উল্লেখ্য, এজাইল প্রকল্পটি ২০২৫ থেকে ২০২৮ মেয়াদে পরিচালিত একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জনপ্রিয়

সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্র্যান্ট পেল কুবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

প্রকাশিত ১০:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ইউরোপীয় ইউনিয়ন–সমর্থিত এজাইল (AGILE) প্রকল্পের অধীনে ‘সাংবাদিকতায় চাপ ও ট্রমা ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কোর্স বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে কোর্সটি যৌথভাবে নকশা ও বাস্তবায়নের জন্য বিভাগটিকে দুই বছরে পাঁচ হাজার ইউরো অর্থসহায়তা দেয়া হবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোর্সটির একাডেমিক সহায়তা, পাঠ্য-উপকরণ ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেবে সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশে উদ্যোগটির সমন্বয় করছে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষকদের নেটওয়ার্ক (সিজেইএন)। এই কোর্সের মূল লক্ষ্য হলো সংকট, দুর্যোগ, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা ট্রমা-সংশ্লিষ্ট ঘটনা কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের যে মানসিক চাপ ও মানসিক আঘাতের অভিজ্ঞতা হয়, তা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তোলা।

সিজেইএন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর উপ-উপাচার্য ড. জুড উইলিয়াম জেনিলো এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশা মানেই চাপ, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি। মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক সরাসরি সহিংসতা, দুর্ঘটনা, শোক ও ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি দেখেন, আবার অনলাইন হয়রানি, মামলা-জটিলতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রতিষ্ঠানের চাপও মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মানসিক চাপ সামলানোর ভাষা, কৌশল এবং সহায়তা-ব্যবস্থার কথা আমাদের পাঠ্যক্রমে খুব কমই আসে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু ‘খবর করা’ শেখালেই হবে না; শেখাতে হবে কীভাবে তারা মানসিকভাবে স্থিত থাকবে, কীভাবে ভুক্তভোগীর প্রতি সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল থাকবে, কীভাবে ট্রমা-সংশ্লিষ্ট কাজের পর নিজেকে গুছিয়ে নেবে, এবং প্রয়োজনে সহায়তা চাইবে। এই উদ্যোগ সাংবাদিকতা শিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করবে এবং ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের জন্য সুস্থ কর্মজীবনের ভিত তৈরি করবে। আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সহ যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতনিধিরা এই প্রজেক্টের জন্য নির্বাচিত হয়েছে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ফান্ড প্রাপ্তি সম্পর্কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা এই প্রজেক্টটি পেয়ে সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ বিশ্বাস করে, সাংবাদিকতায় ট্রমা ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের পেশাগত সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকতা শিক্ষার জন্য সময়োপযোগী এবং জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, প্রকল্পটির লক্ষ্য ও রূপরেখা অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে বাস্তবায়ন করব। গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবভিত্তিক শেখার সমন্বয়ে সাংবাদিকদের মানসিক সুস্থতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আমরা কাজ করব। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞানচর্চা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং টেকসই সাংবাদিকতার জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

উল্লেখ্য, এজাইল প্রকল্পটি ২০২৫ থেকে ২০২৮ মেয়াদে পরিচালিত একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।