ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার আতঙ্ক: ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড ও ভিডিও! Logo প্লাস্টিক জমা, উপহার গাছের চারা: পাবিপ্রবিতে গ্রীন ভয়েসের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ Logo জুলাই শহীদদের স্মরণে নীরব নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির তিন ইউনিটে ৬৬ হাজার ১৬২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ৪৯ হাজার ৬৭৬ জন Logo ব্রহ্মপুত্র নাকি তিস্তা? কোন নদীর পানি এবার কেড়ে নেবে উত্তরের ৫ জেলার মানুষের ঘুম? Logo কুবিতে প্রথমবারের মতো শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং শুরু Logo জাবির মীর মশাররফ হোসেন হল বিতর্ক ক্লাবের সভাপতি মাহির সম্পাদক রাফি Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ Logo অপোর শপ ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করেছে জামাল ভূঁইয়া Logo একসাথে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত, প্রেমিক যমুনায় ঝাঁপ দিতেই হাঁটা ধরলেন প্রেমিকা!

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির তিন ইউনিটে ৬৬ হাজার ১৬২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ৪৯ হাজার ৬৭৬ জন

ছবি: অভিযাত্রা রিপোর্ট

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় তিন ইউনিট মিলিয়ে মোট ৬৬ হাজার ১৬২ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৪৯ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। সার্বিকভাবে পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ২৪.৯২ শতাংশ এবং সার্বিক ফেলের হার ৭৫.০৮ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ১১ জুলাই এবং ১৭ জুলাই দুই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গত ১৪ জুলাই কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ফলাফল এবং সর্বশেষ ১৮ জুলাই রাত ৮টা ৩০ মিনিটে বিজ্ঞান ও ব্যবসা শিক্ষা ইউনিটের ফলাফল একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ও তীব্র প্রতিযোগিতা হয়েছে বিজ্ঞান ইউনিটে (এ ইউনিট)। গত ১৭ জুলাই সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৮ জুলাই রাত ৮টা ৩০ মিনিটে এর ফল প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞান ইউনিটে ৪ হাজার ৭৯৫টি আসনের বিপরীতে মোট ৩১ হাজার ৫৫৩ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন মাত্র ৬ হাজার ১৩ জন। এই ইউনিটে পাসের হার সবচেয়ে কম—১৯.০৬ শতাংশ এবং ফেলের হার সর্বোচ্চ ৮০.৯৪ শতাংশ। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগী ছিলেন ৭ জন।

অন্য দিকে, বাকি ইউনিটগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি সফলতার হার দেখা গেছে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে (বি ইউনিট/মানবিক)। এই ইউনিটের পরীক্ষা গত ১১ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৪ জুলাই এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এখানে ৪ হাজার ৪৯৮টি আসনের বিপরীতে ২৩ হাজার ৩৬৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৭ হাজার ২৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই ইউনিটে পাসের হার সর্বোচ্চ ৩১.১০ শতাংশ এবং ফেলের হার ৬৮.৯০ শতাংশ। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগী ছিলেন প্রায় ৫.২ জন।

এ ছাড়া ব্যবসা শিক্ষা ইউনিটের (সি ইউনিট) পরীক্ষা গত ১৭ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৮ জুলাই রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই ইউনিটে ১ হাজার ৯৯৭টি আসনের বিপরীতে ১১ হাজার ২৪৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ২০৮ জন। ব্যবসা শিক্ষা ইউনিটে পাসের হার ২৮.৫৩ শতাংশ ও ফেলের হার ৭১.৪৭ শতাংশ এবং প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫.৬ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ইউনিটে সর্বমোট আসন সংখ্যা ১১ হাজার ২৯০টি। এর বিপরীতে তিন ইউনিট মিলিয়ে সর্বমোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। ফলে মোট আসনের চেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ১৯৬ জন বেশি। এর ফলে ন্যূনতম পাস নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আসন স্বল্পতার কারণে একটি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী চূড়ান্ত ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, যা মেধা তালিকার ক্ষেত্রে এক ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে।

সার্বিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে প্রতি ৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে ১ জনেরও কম পরীক্ষার্থী পাস করতে সক্ষম হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ফলাফল ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার উচ্চ মানদণ্ড ও তীব্র প্রতিযোগিতার বাস্তব চিত্রকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

জনপ্রিয়

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার আতঙ্ক: ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড ও ভিডিও!

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির তিন ইউনিটে ৬৬ হাজার ১৬২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ৪৯ হাজার ৬৭৬ জন

প্রকাশিত ০১:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় তিন ইউনিট মিলিয়ে মোট ৬৬ হাজার ১৬২ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৪৯ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। সার্বিকভাবে পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ২৪.৯২ শতাংশ এবং সার্বিক ফেলের হার ৭৫.০৮ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ১১ জুলাই এবং ১৭ জুলাই দুই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গত ১৪ জুলাই কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ফলাফল এবং সর্বশেষ ১৮ জুলাই রাত ৮টা ৩০ মিনিটে বিজ্ঞান ও ব্যবসা শিক্ষা ইউনিটের ফলাফল একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ও তীব্র প্রতিযোগিতা হয়েছে বিজ্ঞান ইউনিটে (এ ইউনিট)। গত ১৭ জুলাই সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৮ জুলাই রাত ৮টা ৩০ মিনিটে এর ফল প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞান ইউনিটে ৪ হাজার ৭৯৫টি আসনের বিপরীতে মোট ৩১ হাজার ৫৫৩ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন মাত্র ৬ হাজার ১৩ জন। এই ইউনিটে পাসের হার সবচেয়ে কম—১৯.০৬ শতাংশ এবং ফেলের হার সর্বোচ্চ ৮০.৯৪ শতাংশ। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগী ছিলেন ৭ জন।

অন্য দিকে, বাকি ইউনিটগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি সফলতার হার দেখা গেছে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে (বি ইউনিট/মানবিক)। এই ইউনিটের পরীক্ষা গত ১১ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৪ জুলাই এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এখানে ৪ হাজার ৪৯৮টি আসনের বিপরীতে ২৩ হাজার ৩৬৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৭ হাজার ২৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই ইউনিটে পাসের হার সর্বোচ্চ ৩১.১০ শতাংশ এবং ফেলের হার ৬৮.৯০ শতাংশ। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগী ছিলেন প্রায় ৫.২ জন।

এ ছাড়া ব্যবসা শিক্ষা ইউনিটের (সি ইউনিট) পরীক্ষা গত ১৭ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৮ জুলাই রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই ইউনিটে ১ হাজার ৯৯৭টি আসনের বিপরীতে ১১ হাজার ২৪৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ২০৮ জন। ব্যবসা শিক্ষা ইউনিটে পাসের হার ২৮.৫৩ শতাংশ ও ফেলের হার ৭১.৪৭ শতাংশ এবং প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫.৬ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ইউনিটে সর্বমোট আসন সংখ্যা ১১ হাজার ২৯০টি। এর বিপরীতে তিন ইউনিট মিলিয়ে সর্বমোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। ফলে মোট আসনের চেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ১৯৬ জন বেশি। এর ফলে ন্যূনতম পাস নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আসন স্বল্পতার কারণে একটি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী চূড়ান্ত ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, যা মেধা তালিকার ক্ষেত্রে এক ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে।

সার্বিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে প্রতি ৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে ১ জনেরও কম পরীক্ষার্থী পাস করতে সক্ষম হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ফলাফল ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার উচ্চ মানদণ্ড ও তীব্র প্রতিযোগিতার বাস্তব চিত্রকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।