ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo হাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার Logo বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ কিমের Logo রুশ বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে চান মিয়া সাত্তার Logo ‘এমন বডিবিল্ডার বাবা ঘরে ঘরে হোক’ Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ফেরানো ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’: শামা ওবায়েদ Logo ফোল্ডএবল আইফোন ঘিরে ক্রেতার ভিড়, মিলছে না সহজে Logo ‘অভিযোগ না পেলেও চাঁদাবাজির মামলা করতে পারবে পুলিশ’ Logo রাস্তা-ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই মামলা ও মালামাল ক্রোক: ডিএসসিসি প্রশাসক Logo কমনওয়েলথ কাবাডিতে কানাডাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ Logo বার্সেলোনার হয়ে রেয়ালের বিপক্ষে খেলতে উন্মুখ জেসুস

জুলাই শহীদদের স্মরণে নীরব নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। তবে শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিঙ্ক (ইউটিএল) উদ্যোগ নিয়ে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করে। প্রশাসনের এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। জুলাইয়ের এই দিনগুলোকে স্মরণসভা, সমাবেশ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হলেও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক কোন বার্তা কিংবা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি।

বাংলাদেশের জাতীয় পটপরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান। ২০২৪ এর এই দিনে নির্মমভাবে শহীদ হোন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদ, চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরামসহ কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইমামুল হোসেন বলেন, “আজকের নতুন বাংলাদেশের পেছনে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। যারা জীবন দিয়ে এই পরিবর্তনের ভিত্তি গড়েছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সম্মান জানিয়ে অন্তত একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন প্রত্যাশিত ছিল।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত আহাদ বলেন, “যে সকল ছাত্র-জনতা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার স্থান নয়; এটি ইতিহাস, মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনা ধারণ ও লালনেরও কেন্দ্র। শহীদদের স্মরণ করা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি মানবিকতা, কৃতজ্ঞতা এবং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।”

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “গত বছর সরকার একটা প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলো ১৬ তারিখ থেকে মাসব্যাপী জুলাই উদযাপনের জন্য ও জুলাই স্মরণের জন্য। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরাও সেসব কর্মসূচি পালন করেছি। এ বছরও সরকার যদি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে, আমরা তা মানতে বাধ্য।”

তিনি আরও বলেন, “তারপরও জুলাই নিয়ে আমরা অবশ্যই ভাবি। তোমরা হয়তো খেয়াল করেছ, জুলাই স্কয়ারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। আমি নিজে সেখানে পরিদর্শন করেছি। আমি গতকালও সেখানে লক্ষ করেছি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে, ঘাস কেটে ফেলা হচ্ছে এবং ভাঙা টাইলসগুলো মেরামতের নির্দেশ দিয়েছি। মূল অবকাঠামোতে হাত দেইনি, তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা কোনো কাজ করছি না। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি নকশা আহ্বান করেছি এবং স্থাপত্য নকশাও পেয়েছি।”

জনপ্রিয়

হাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার

জুলাই শহীদদের স্মরণে নীরব নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

প্রকাশিত ১২:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। তবে শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিঙ্ক (ইউটিএল) উদ্যোগ নিয়ে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করে। প্রশাসনের এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। জুলাইয়ের এই দিনগুলোকে স্মরণসভা, সমাবেশ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হলেও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক কোন বার্তা কিংবা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি।

বাংলাদেশের জাতীয় পটপরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান। ২০২৪ এর এই দিনে নির্মমভাবে শহীদ হোন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদ, চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরামসহ কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইমামুল হোসেন বলেন, “আজকের নতুন বাংলাদেশের পেছনে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। যারা জীবন দিয়ে এই পরিবর্তনের ভিত্তি গড়েছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সম্মান জানিয়ে অন্তত একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন প্রত্যাশিত ছিল।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত আহাদ বলেন, “যে সকল ছাত্র-জনতা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার স্থান নয়; এটি ইতিহাস, মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনা ধারণ ও লালনেরও কেন্দ্র। শহীদদের স্মরণ করা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি মানবিকতা, কৃতজ্ঞতা এবং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।”

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “গত বছর সরকার একটা প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলো ১৬ তারিখ থেকে মাসব্যাপী জুলাই উদযাপনের জন্য ও জুলাই স্মরণের জন্য। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরাও সেসব কর্মসূচি পালন করেছি। এ বছরও সরকার যদি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে, আমরা তা মানতে বাধ্য।”

তিনি আরও বলেন, “তারপরও জুলাই নিয়ে আমরা অবশ্যই ভাবি। তোমরা হয়তো খেয়াল করেছ, জুলাই স্কয়ারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। আমি নিজে সেখানে পরিদর্শন করেছি। আমি গতকালও সেখানে লক্ষ করেছি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে, ঘাস কেটে ফেলা হচ্ছে এবং ভাঙা টাইলসগুলো মেরামতের নির্দেশ দিয়েছি। মূল অবকাঠামোতে হাত দেইনি, তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা কোনো কাজ করছি না। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি নকশা আহ্বান করেছি এবং স্থাপত্য নকশাও পেয়েছি।”