ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ভুয়া জরিপের ফাঁদ, আস্থার সংকট Logo কামিন্দুর ‘প্রথম’ সেঞ্চুরি Logo কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান Logo বড় সাজ্জাদের ‘নতুন সহযোগী’ গ্রেপ্তার, পুলিশ বলছে তার ‘বেতন ৫০ হাজার’ Logo ট্রাফিক সংকটে রেডিট, এখন থেকে কনটেন্ট দেখতে লাগবে লগইন Logo দীর্ঘায়ু ও সুস্থ বার্ধক্যের বিষয়ে প্রচলিত ৬টি ভুল ধারণা Logo শুরু হতে যাচ্ছে ‘দ্য ফ্লো ফেস্ট’: একাকিত্ব দূর করার নতুন উদ্যোগ Logo যুক্তরাষ্ট্রে ‘অবৈধ ভোট’ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা Logo ঢাবিতে ভর্তি হওয়া উচিত নয়: ফজলুর রহমান Logo ‘বহুরুপী ৩’: ‘ডাকাতদের’ সঙ্গে থাকছেন মিঠুন চক্রবর্তী

চরভদ্রাসনে খাল কাটায় ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’: কাগজে ১৭৮, মাঠে ৫০

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ভুবনেশ্বর নদী খনন (খাল কাটা) কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করলেও কাগজে-কলমে ১৭৮ জন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৭৮ জন শ্রমিকের নামে ২২ দিনের মজুরি হিসেবে জনপ্রতি প্রতিদিন ৫০০ টাকা হারে মোট ১১ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১৭৮ জনের তালিকা থেকে পাঁচজন বাদ দিয়ে ১৭৩ জনের বিল পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপের শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের জন্য প্রায় এক সপ্তাহ আগে ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১০ টাকা সোনালী ব্যাংকের হাজীগঞ্জ শাখায় জমা দেওয়া হয়। গত ২০ জুলাই পর্যন্ত ১২৫ জন শ্রমিক তাদের মজুরি উত্তোলন করলেও তালিকাভুক্ত বাকি ৪৮ জন শ্রমিকের কোনো অস্তিত্ব বা সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তেলিবারী ঘাট এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩৩ দিন কাজ হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিককে মাঠে কাজ করতে দেখেছি। অথচ অফিসে ১৭৮ জন শ্রমিকের বিল দাখিল করা হয়েছে। এটাকে পুকুর চুরি বললেও কম হবে, এ যেন সাগর চুরি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে ১৭৮ জন শ্রমিকের মাস্টাররোল জমা দেওয়ার পর তাদের অনুকূলে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকা পাঠানো হয়েছে। এখন যদি বলা হয় শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে সেটি কেমন কথা? তবে বর্তমানে আমি বদলি হয়ে গেছি, তাই এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে পারব না।” অন্যদিকে, অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে প্রকল্প কমিটির সেক্রেটারি মো. বশির মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের আসল শ্রমিক তালিকা, মাস্টাররোল, উপস্থিতি রেজিস্টার, ব্যাংক হিসাব ও মাঠে কাজ করা প্রকৃত শ্রমিকদের তথ্য যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সাথে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

আব্দুস সালাম/ফরিদপুর

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ভুয়া জরিপের ফাঁদ, আস্থার সংকট

চরভদ্রাসনে খাল কাটায় ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’: কাগজে ১৭৮, মাঠে ৫০

প্রকাশিত ১০:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ভুবনেশ্বর নদী খনন (খাল কাটা) কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করলেও কাগজে-কলমে ১৭৮ জন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৭৮ জন শ্রমিকের নামে ২২ দিনের মজুরি হিসেবে জনপ্রতি প্রতিদিন ৫০০ টাকা হারে মোট ১১ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১৭৮ জনের তালিকা থেকে পাঁচজন বাদ দিয়ে ১৭৩ জনের বিল পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপের শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের জন্য প্রায় এক সপ্তাহ আগে ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১০ টাকা সোনালী ব্যাংকের হাজীগঞ্জ শাখায় জমা দেওয়া হয়। গত ২০ জুলাই পর্যন্ত ১২৫ জন শ্রমিক তাদের মজুরি উত্তোলন করলেও তালিকাভুক্ত বাকি ৪৮ জন শ্রমিকের কোনো অস্তিত্ব বা সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তেলিবারী ঘাট এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩৩ দিন কাজ হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিককে মাঠে কাজ করতে দেখেছি। অথচ অফিসে ১৭৮ জন শ্রমিকের বিল দাখিল করা হয়েছে। এটাকে পুকুর চুরি বললেও কম হবে, এ যেন সাগর চুরি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে ১৭৮ জন শ্রমিকের মাস্টাররোল জমা দেওয়ার পর তাদের অনুকূলে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকা পাঠানো হয়েছে। এখন যদি বলা হয় শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে সেটি কেমন কথা? তবে বর্তমানে আমি বদলি হয়ে গেছি, তাই এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে পারব না।” অন্যদিকে, অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে প্রকল্প কমিটির সেক্রেটারি মো. বশির মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের আসল শ্রমিক তালিকা, মাস্টাররোল, উপস্থিতি রেজিস্টার, ব্যাংক হিসাব ও মাঠে কাজ করা প্রকৃত শ্রমিকদের তথ্য যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সাথে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

আব্দুস সালাম/ফরিদপুর