তেল-মসলা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে কড়াইয়ে চড়ানো হয়েছিল গরুর মাংস। কিন্তু রান্নার প্রক্রিয়া শুরু হতেই ঘটতে থাকে এক অস্বাভাবিক ঘটনা—লালচে মাংসের রঙ বদলে হতে শুরু করে নীলচে-সবুজ! যতই নাড়াচাড়া করা হচ্ছিল, মাংসের সেই গাঢ় সবুজ রঙ ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেশ রান্না করা সেই মাংসের কড়াই হাতে নিয়েই বিচার চাইতে থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ছুটলেন ভুক্তভোগীরা।
আজ বুধবার দুপুরে খুলনার পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারিতে ঘটে এমন আজব কাণ্ড। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষের ভীড় জমে যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী মিলে আজ কর্মস্থলে যৌথ খাবারের আয়োজন করেছিলেন। সকালে বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেনসহ তিনজন পাইকগাছা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকানে যান। ব্যবসায়ী ইসমাইল তাদের জানান, সেদিনের তাজা মাংস শেষ হয়ে গেছে, তবে আগের দিনের ফ্রিজে রাখা মাংস আছে। সেখান থেকেই চার কেজি মাংস কিনে এনে কর্মচারীরা রান্না শুরু করেছিলেন।
বেকারির কর্মচারীরা জানান, কড়াইয়ে মাংস বসানোর কিছুক্ষণ পরই অদ্ভুতভাবে রঙ পরিবর্তন হতে থাকে। রঙ নীল-সবুজ হয়ে যাওয়ায় তারা আতঙ্কিত হয়ে চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে ফেলেন। এরপর সেই রান্না করা মাংস নিয়ে প্রথমে বিক্রেতার দোকানে, পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং সবশেষে থানায় হাজির হন।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, দুপুরে বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তারা শেষ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জমা দিতে রাজি হননি। পুলিশকে মাংস দেখানোর কিছুক্ষণ পর তারা কড়াই নিয়ে সেখান থেকে চলে যান এবং পরবর্তীতে সেই মাংস ফেলে দেওয়া হয়।




























