ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ৩২ বছর পূর্বে ছাত্রদলের হামলায় নিহত কামরুলের স্মরণে জাবিতে শিবিরের বৃক্ষরোপণ Logo নামফলকহীন জরাজীর্ণ ফটকেই চলছে কুবির বিজয়-২৪ হল Logo বাবার দোকানে একা পেয়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, ১৪ বছরের কিশোরকে পুলিশে সোপর্দ Logo কবি নজরুল কলেজে ৬ টি বাস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৬ বছরেও কথা রাখেননি কাদির মোল্লা Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদির Logo খুবি ছাত্রী হলের বাথরুমে গোপনে ৬ মাসে ৯০০ ভিডিও ধারণ করে টেলিগ্রাম গ্রুপে বিক্রি, ক্যান্টিন কর্মী আটক Logo তদন্ত চলাকালীন সিএমওকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম জাকসুর Logo ববিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ শীর্ষক সেমিনার ও নেগেরি পাডাং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে MoU স্বাক্ষরিত Logo ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ সরকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে ঘটনার সব ধরনের ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আলাদাভাবে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলার পরিবর্তে সরকারের অবস্থান আদালতের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

আদেশে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীপক্ষকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর আবেদনকারীরা দুই সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা জবাব জমা দিতে পারবেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা (নিট) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২০ ও ২১ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। ওই কর্মসূচিতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে অভিযোগ তুলে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।

শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, যাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ হয়েছে তারা চাইলে থানায় বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে পৃথকভাবে এফআইআর করতে পারেন। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।

বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতো, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেত। কিন্তু এখানে যে অভিযোগ উঠেছে, তা বৃহত্তর পরিসরের। আদালত আরও বলেন, কোনো জমায়েত বেআইনি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়; প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এন. হরিহরণ আদালতে দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেখানে অযৌক্তিক ও কঠোর শক্তি প্রয়োগ করেছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০ জুলাই সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ কোনো পূর্বঘোষণা বা সতর্কতা ছাড়াই লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, ইলেকট্রিক ব্যাটন এবং শারীরিক বলপ্রয়োগ করে। এতে ৯০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন। নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্তার অভিযোগও করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে অংশ নেওয়া অনেক পুলিশ সদস্যের ইউনিফর্মে নামফলক না থাকায় তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু আদালতকে জানান, বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠেছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। তাঁর দাবি, ভিডিও ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। ঘটনার সময় এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা কার্যকর ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এসব জনস্বার্থ মামলা মূলত প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

এদিকে একই দিনে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশনরত অবস্থায় দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত চেয়ে করা আরেকটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানান, একই বিষয়ে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অঙ্গমোর দায়ের করা মামলা ইতোমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে একই বিষয়ে নতুন করে আরেকটি আবেদন শুনানির প্রয়োজন নেই।

জনপ্রিয়

৩২ বছর পূর্বে ছাত্রদলের হামলায় নিহত কামরুলের স্মরণে জাবিতে শিবিরের বৃক্ষরোপণ

বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

প্রকাশিত ০৯:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে ঘটনার সব ধরনের ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আলাদাভাবে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলার পরিবর্তে সরকারের অবস্থান আদালতের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

আদেশে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীপক্ষকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর আবেদনকারীরা দুই সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা জবাব জমা দিতে পারবেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা (নিট) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২০ ও ২১ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। ওই কর্মসূচিতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে অভিযোগ তুলে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।

শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, যাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ হয়েছে তারা চাইলে থানায় বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে পৃথকভাবে এফআইআর করতে পারেন। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।

বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতো, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেত। কিন্তু এখানে যে অভিযোগ উঠেছে, তা বৃহত্তর পরিসরের। আদালত আরও বলেন, কোনো জমায়েত বেআইনি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়; প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এন. হরিহরণ আদালতে দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেখানে অযৌক্তিক ও কঠোর শক্তি প্রয়োগ করেছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০ জুলাই সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ কোনো পূর্বঘোষণা বা সতর্কতা ছাড়াই লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, ইলেকট্রিক ব্যাটন এবং শারীরিক বলপ্রয়োগ করে। এতে ৯০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন। নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্তার অভিযোগও করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে অংশ নেওয়া অনেক পুলিশ সদস্যের ইউনিফর্মে নামফলক না থাকায় তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু আদালতকে জানান, বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠেছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। তাঁর দাবি, ভিডিও ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। ঘটনার সময় এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা কার্যকর ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এসব জনস্বার্থ মামলা মূলত প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

এদিকে একই দিনে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশনরত অবস্থায় দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত চেয়ে করা আরেকটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানান, একই বিষয়ে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অঙ্গমোর দায়ের করা মামলা ইতোমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে একই বিষয়ে নতুন করে আরেকটি আবেদন শুনানির প্রয়োজন নেই।