কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পাঁচটি আবাসিক হলের মধ্যে চারটিতেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মূল ফটক ও নামফলক। তবে ব্যতিক্রম বিজয়-২৪ হল। হলটিতে একটি পুরোনো প্রবেশপথ থাকলেও সেটি জরাজীর্ণ, নেই দৃষ্টিনন্দন মূল ফটক, নামফলক কিংবা পরিকল্পিত সীমানা। ফলে হলটির সৌন্দর্য, স্বতন্ত্র পরিচিতি ও নিরাপত্তা তিনটি বিষয় নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমান প্রবেশপথটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। মূল ফটকে কোনো নামফলক না থাকায় দূর থেকে হলটি সহজে চেনারও সুযোগ নেই। পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশব্যবস্থার যথাযথ নকশা না থাকায় বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলে আধুনিক নকশার মূল ফটক ও সুস্পষ্ট সীমানা থাকলেও বিজয়-২৪ হলে এখনো সেই সুবিধা গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের মতে, একটি আবাসিক হলের মূল ফটক শুধু প্রবেশপথ নয়; এটি হলের পরিচিতি, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তাই জরাজীর্ণ প্রবেশপথ সংস্কার করে নামফলকসংবলিত আধুনিক মূল ফটক এবং পরিকল্পিত সীমানা নির্মাণ সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাঈম ভুঁইয়া বলেন, ‘প্রত্যেকটি হলের একটি নির্দিষ্ট সীমানা ও মূল ফটক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য জায়গাগুলো পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার ও সৌন্দর্যবর্ধন করা সম্ভব হয়। ফলে কোনো স্থান অযত্নে বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফাঁকা পড়ে থাকে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলগুলোর নির্ধারিত সীমানা ও মূল ফটক থাকলেও আমাদের বিজয়-২৪ হলে এখনো সীমানাপ্রাচীর ও মূল ফটক নেই। তাই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত সীমানাপ্রাচীর ও মূল ফটক নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।’
বিজয়-২৪ হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো: শরিফুল আলম বিজয় বলেন, “মূল ফটক না থাকায় হলের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় একটা উদ্বেগ কাজ করে। বিশেষ করে রাতের বেলায় যে কেউ সহজেই হল এলাকায় প্রবেশ করতে পারে, যা আমাদের জন্য অস্বস্তিকর। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কথা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিক এবং অন্যান্য হলের মতো বিজয়-২৪ হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ মূল ফটক নির্মাণ করা হোক।”
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মো: মাহমুদুল হাছান খান বলেন, “আমাদের গত বাজেটে বেশকিছু কাজ হয়েছে, যেমন রান্নাঘরের শেড তৈরি, দরজা জানালা মেরামত এই ধরনের। আর হলের গেইটের জন্য আলাদা বাজেট পাশ করা লাগে। যেটা পরিকল্পনা দপ্তর হয়ে এবং বিভিন্ন বৈঠকের মাধ্যমে এসে পরে পাশ হয়। এটা একটা লং প্রসেস।তবে আমরা দুই দফায় আবেদন জানিয়েছি। বলা হয়েছে নতুন বাজেটে এটা কার্যকর করা হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের প্রধান নির্বাহী এস এম শহীদুল হাসান বলেন বলেন, “গত অর্থবছরে বিজয়-২৪ হলের মূল ফটক নির্মাণের বিষয়টি পরিকল্পনায় ছিল। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য জরুরি অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার কারণে হল কর্তৃপক্ষ ফটক নির্মাণের কাজটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোন কাজটি অগ্রাধিকার পাবে, সে সিদ্ধান্ত হল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হয়। নতুন অর্থবছরে পুনরায় এ বিষয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে মূল ফটক নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “রেজিস্ট্রার ও ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির অগ্রগতি জানতে হবে। আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।’




























