দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে সিলেটে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ কাজে র্যাব, ডিজিএফআই ও এসবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত দল মাঠে রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, সেবার মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গত এক মাসে দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিকাংশ হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক, অনুমোদনহীন লেবার রুম ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিকা কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, তথ্য ঘাটতি ও বয়সের কারণে কিছু শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তাদের টিকার আওতায় আনতে ‘মপ-আপ’ ক্যাম্পেইন চলছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বড় পরিসরে টিকাদান শুরু হবে। সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ড্রেনেজসহ অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত জনবল নিয়োগ শুরু হবে।
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে আনসার ক্যাম্প স্থাপনের কথাও জানান তিনি।
চিকিৎসক ও রোগী পরস্পরের প্রতিপক্ষ নন উল্লেখ করে মন্ত্রী উভয়ের সহযোগিতার ওপর জোর দেন। সিলেটে একটি পৃথক শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প ঘিরে কাজ চলছে। এগুলো হলো ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ৪৫০ শয্যার অসম্পূর্ণ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্রুত প্রস্তুত করা। প্রকল্পগুলো পুরোপুরি চালু হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের শুরুতেই দুই মন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন।































