কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বিশাল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ এক তরুণকে হাতেনাতে আটক করেছেন। শুক্রবার ভোরে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ একটি বিশেষ টহল দল এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য বেশ চড়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের এই বড় চালান প্রবেশের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে সুনির্দিষ্ট কিছু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খারাংখালী বিওপির একটি বিশেষ দল দেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার বিএসপি পোস্টের নিকট অবস্থান নেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে মিয়ানমারের দিক থেকে সন্দেহজনক এক ব্যক্তিকে মাথায় বা হাতে বস্তা নিয়ে বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখেন বিজিবি সদস্যরা। পরবর্তীতে জওয়ানরা তাকে থামানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালান, তবে দ্রুত ধাওয়া করে তাকে সফলভাবে আটক করা হয়।
আটক হওয়া ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করে বিজিবি জানিয়েছে, তার নাম রুহল আমিন (১৮) এবং তিনি টেকনাফের মৌলভীবাজার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলমের সন্তান। আটকের পর তার সঙ্গে থাকা বস্তাটি তল্লাশি করে খাকি রঙের বিশেষ প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুহল আমিন স্বীকার করেছেন যে তিনি মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকা থেকে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই ইয়াবার চালান সংগ্রহ করেছিলেন এবং অধিক মুনাফার লোভে দেশের ভেতরে সরবরাহের উদ্দেশ্যে তা বহন করছিলেন।
এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন যে, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত মূল সরবরাহকারী এবং স্থানীয় চোরাকারবারী চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির এই ধরনের কঠোর ও তৎপর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
































