যশোরের অভয়নগর উপজেলায় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের মজুমদার ব্রান অয়েল মিলসংলগ্ন যশোর-খুলনা মহাসড়কে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দুই আরোহী সম্পর্কে ফুফু ও ভাটিপো হতেন এবং তারা একটি মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি বাস তাদের সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের যাত্রা চিরতরে থেমে যায় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন উপজেলার মশরহাটী গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে আমজেদ গাজী (৫৪) এবং অপরজন লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মালেক সরদারের স্ত্রী আছিরন বিবি (৬৫)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার মুহূর্তে গড়াই পরিবহনের ওই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে আঘাত করে। এর ফলে বাইকটি বাসের সামনের ইঞ্জিনের সঙ্গে মারাত্মকভাবে আটকে যায়। ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটির চালক ও তার সহকারীরা দ্রুত গাড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ যৌথভাবে এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের বাঁচিয়ে রাখতে পারেননি। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাজনিন নিগার গণমাধ্যমকে জানান যে, সড়ক দুর্ঘটনায় শিকার হওয়া পুরুষটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধা নারীরও মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মাথায় মারাত্মক আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তাদের এই অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ইতোমধ্যে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পলাতক চালক ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান যে, এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং বর্তমানে উক্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।































