জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ঘোষিত চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। সম্প্রতি ময়মনসিংহের তারাকান্দায় একটি স্থানীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে দেশের জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে দীর্ঘপথের কর্মসূচি পালন করা কোনোভাবেই জনস্বার্থসম্মত হতে পারে না।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা তার বক্তব্যে বলেন, কেবল লংমার্চে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা কমালেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সাধারণ মানুষের সার্বিক দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে পুরো কর্মসূচি বাতিল করা উচিত। রাজনীতি সবসময় মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কষ্ট বাড়িয়ে কোনো রাজনৈতিক দল কখনোই জনকল্যাণমূলক কিছু বয়ে আনতে পারে না। এই দীর্ঘ লংমার্চের পেছনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয় না করে তা যদি সাধারণ গণপরিবহন এবং সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হতো, তবে দেশবাসীর জন্য অনেক বেশি মঙ্গলজনক হতো।
বর্তমান সংকটের সময়ে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, তাদের এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রমাণ করে যে তারা কি আসলেই দেশের চলমান সংকটের সমাধান করতে চায়, নাকি সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। দেশের এমন স্পর্শকাতর সময়ে জ্বালানি সংকট ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায় এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, তারাকান্দা উপজেলা বিএনপি আয়োজিত ওই সমাবেশে ময়মনসিংহ জেলা ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবং সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে একই দিনে ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি পৃথক আলোচনা সভাতেও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। সেখানে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম ও বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যারা নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় সরকারকে ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করতে চায়, মূলত তারা নিজেরাই রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। এ সময় ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সেই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
































