কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অভাবনীয় মাইলফলক অর্জনের কথা জানিয়েছে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী ধরে অমীমাংসিত থাকা একটি জটিল গণিতের সমস্যার সমাধান মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের তৈরি পরবর্তী প্রজন্মের উন্নত এআই মডেল ব্যবহার করে এই জটিল কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দৌড়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, প্রায় ৯০ বছর ধরে গণিতবিদদের ধাঁধায় ফেলে রাখা ঐতিহ্যবাহী ‘নেভিয়ার-স্টোকস’ সমীকরণের অস্তিত্ব ও মসৃণতা সংক্রান্ত সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে। এই বিশেষ সমীকরণটি মূলত তরল পদার্থ ও গ্যাসের প্রবাহের গতিপ্রকৃতি নিখুঁতভাবে বুঝতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের হিসাব করার সময় তার গাণিতিক সমাধান সবসময় পাওয়া সম্ভব কি না এবং সেই ফলাফল মসৃণ থাকে কি না, সেটিই এই জটিল সমস্যার মূল বিষয়। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণিতবিদরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আসছিলেন।
এই বিশাল গাণিতিক সমস্যাটির সমাধানে ওপেনএআই প্রায় ১০ হাজার স্বচালিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বট বা এজেন্ট নিয়োগ করেছিল বলে জানা গেছে। এসব এআই বট সম্মিলিতভাবে ও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত গাণিতিক সমাধানে পৌঁছায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে, বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন সাতটি অমীমাংসিত সমস্যার জন্য ক্লে গণিত ইনস্টিটিউটের ঘোষিত কোনো আর্থিক পুরস্কার তারা দাবি করবে না। তাদের এই পুরো প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য ছিল জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা ও কার্যকারিতা কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।
এদিকে ওপেনএআইয়ের এই চাঞ্চল্যকর দাবি প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক গবেষক মহলে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গণিত অধ্যাপক এবং অপর একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গবেষক একই সমীকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন। তাদের গবেষণার কিছু অগ্রগতি ও তথ্য অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ওপেনএআই এই সফলতা অর্জন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ। তারা দাবি করেছে যে, তাদের অর্জিত সমাধানটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং অন্য কোনো গবেষকের কাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়নি।





































