ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা কি শুধুই রোগ, নাকি অন্য কোনও বিপদের সংকেত? Logo ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির শামসুর রহমানের ৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ Logo শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে পরাজিত শক্তি ইন্ধন দিচ্ছে: রিজভী Logo অ্যামচ্যামের ৩০তম ইউএস ট্রেড শো শুরু হচ্ছে ৫ নভেম্বর Logo অ্যানফিল্ড জয়ের মিশন উপভোগ করছে আর্সেনাল Logo চাকরিদাতাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত কর্মক্ষেত্র বদলে দিচ্ছে এআই: মেটলাইফের গবেষণা Logo প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য দিনে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন Logo জাতীয় নিরাপত্তা-আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে হতে হবে Logo প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ‘অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন’ নয়: জবি শিক্ষার্থীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দলের উন্নতিতে আশাবাদী হয়ে উঠছেন মরিনিয়ো

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, দৃশ্যমাধ্যমের বিবৃতিতে বিচার চাইলেন ১২২ জন

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণকালে প্রখ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর সংঘটিত শারীরিক হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। সম্প্রতি ভেনিস শহরের একটি স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা এই হামলার শিকার হন তিনি, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। দৃশ্যমাধ্যম সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এই প্রতিবাদলিপিতে দেশের স্বনামধন্য ১২২ জন শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলী নিজেদের স্বাক্ষর যুক্ত করেছেন।

প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে শিল্পীরা উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকেই আজমেরী হক বাঁধন নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন। মূলত ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে হেনস্তার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন শিল্পীর মত প্রকাশের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই নীরব থাকার অধিকারও তাঁর মৌলিক স্বাধীনতার অংশ। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে প্রকাশ্যে কোনো নারীর গায়ে হাত তোলা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনো সভ্য প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। এটি মূলত সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে যুক্তির পরিবর্তে শক্তির প্রদর্শন করা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দেশের এই ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলো আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখিয়েছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না এবং কোনো শিল্পীর শরীর রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্র হতে পারে না। এই ধরনের সহিংসতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হানার শামিল। তাই দেশের সংস্কৃতিমনা মানুষ এই ঘটনার তীব্র সুরাহা চেয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

দৃশ্যমাধ্যম সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের সক্ষ্য প্রমাণ সাপেক্ষে চিহ্নিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে শিল্পীরা জানান যে, ভয়ভীতি দেখিয়ে শিল্পীদের সৃজনশীল কণ্ঠকে কখনোই দমিয়ে রাখা যাবে না। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনদের মধ্যে দেশের প্রথিতযশা নির্মাতা, অভিনেতা, লেখক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা সবাই এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়েছেন।

জনপ্রিয়

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা কি শুধুই রোগ, নাকি অন্য কোনও বিপদের সংকেত?

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, দৃশ্যমাধ্যমের বিবৃতিতে বিচার চাইলেন ১২২ জন

প্রকাশিত ০৪:১০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণকালে প্রখ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর সংঘটিত শারীরিক হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। সম্প্রতি ভেনিস শহরের একটি স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা এই হামলার শিকার হন তিনি, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। দৃশ্যমাধ্যম সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এই প্রতিবাদলিপিতে দেশের স্বনামধন্য ১২২ জন শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলী নিজেদের স্বাক্ষর যুক্ত করেছেন।

প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে শিল্পীরা উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকেই আজমেরী হক বাঁধন নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন। মূলত ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে হেনস্তার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন শিল্পীর মত প্রকাশের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই নীরব থাকার অধিকারও তাঁর মৌলিক স্বাধীনতার অংশ। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে প্রকাশ্যে কোনো নারীর গায়ে হাত তোলা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনো সভ্য প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। এটি মূলত সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে যুক্তির পরিবর্তে শক্তির প্রদর্শন করা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দেশের এই ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলো আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখিয়েছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না এবং কোনো শিল্পীর শরীর রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্র হতে পারে না। এই ধরনের সহিংসতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হানার শামিল। তাই দেশের সংস্কৃতিমনা মানুষ এই ঘটনার তীব্র সুরাহা চেয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

দৃশ্যমাধ্যম সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের সক্ষ্য প্রমাণ সাপেক্ষে চিহ্নিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে শিল্পীরা জানান যে, ভয়ভীতি দেখিয়ে শিল্পীদের সৃজনশীল কণ্ঠকে কখনোই দমিয়ে রাখা যাবে না। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনদের মধ্যে দেশের প্রথিতযশা নির্মাতা, অভিনেতা, লেখক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা সবাই এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়েছেন।