ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo গভীর সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও ২৬ ব্লকে হবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান Logo রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদবিতে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ না লেখার নির্দেশ Logo বজ্রপাতে বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকুর বাসায় আগুন Logo ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, দৃশ্যমাধ্যমের বিবৃতিতে বিচার চাইলেন ১২২ জন Logo রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ লেখা যাবে না Logo রেকর্ড বৃষ্টিতে ডুবছে জাপান, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি Logo সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৭ জনের কারাদণ্ড Logo ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কার ছায়া Logo ৯০ বছরের পুরোনো গণিতের সমস্যা ৮৮ ঘণ্টায় সমাধান করল এআই! Logo হরমুজে ২০ জাহাজে ইরানের হামলা

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, দৃশ্যমাধ্যমের বিবৃতিতে বিচার চাইলেন ১২২ জন

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণকালে প্রখ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর সংঘটিত শারীরিক হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। সম্প্রতি ভেনিস শহরের একটি স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা এই হামলার শিকার হন তিনি, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। দৃশ্যমাধ্যম সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এই প্রতিবাদলিপিতে দেশের স্বনামধন্য ১২২ জন শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলী নিজেদের স্বাক্ষর যুক্ত করেছেন।

প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে শিল্পীরা উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকেই আজমেরী হক বাঁধন নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন। মূলত ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে হেনস্তার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন শিল্পীর মত প্রকাশের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই নীরব থাকার অধিকারও তাঁর মৌলিক স্বাধীনতার অংশ। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে প্রকাশ্যে কোনো নারীর গায়ে হাত তোলা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনো সভ্য প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। এটি মূলত সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে যুক্তির পরিবর্তে শক্তির প্রদর্শন করা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দেশের এই ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলো আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখিয়েছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না এবং কোনো শিল্পীর শরীর রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্র হতে পারে না। এই ধরনের সহিংসতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হানার শামিল। তাই দেশের সংস্কৃতিমনা মানুষ এই ঘটনার তীব্র সুরাহা চেয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

দৃশ্যমাধ্যম সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের সক্ষ্য প্রমাণ সাপেক্ষে চিহ্নিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে শিল্পীরা জানান যে, ভয়ভীতি দেখিয়ে শিল্পীদের সৃজনশীল কণ্ঠকে কখনোই দমিয়ে রাখা যাবে না। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনদের মধ্যে দেশের প্রথিতযশা নির্মাতা, অভিনেতা, লেখক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা সবাই এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়েছেন।

জনপ্রিয়

গভীর সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও ২৬ ব্লকে হবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, দৃশ্যমাধ্যমের বিবৃতিতে বিচার চাইলেন ১২২ জন

প্রকাশিত ০৪:১০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণকালে প্রখ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর সংঘটিত শারীরিক হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। সম্প্রতি ভেনিস শহরের একটি স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা এই হামলার শিকার হন তিনি, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। দৃশ্যমাধ্যম সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এই প্রতিবাদলিপিতে দেশের স্বনামধন্য ১২২ জন শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলী নিজেদের স্বাক্ষর যুক্ত করেছেন।

প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে শিল্পীরা উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকেই আজমেরী হক বাঁধন নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন। মূলত ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে হেনস্তার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন শিল্পীর মত প্রকাশের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই নীরব থাকার অধিকারও তাঁর মৌলিক স্বাধীনতার অংশ। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে প্রকাশ্যে কোনো নারীর গায়ে হাত তোলা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনো সভ্য প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। এটি মূলত সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে যুক্তির পরিবর্তে শক্তির প্রদর্শন করা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দেশের এই ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলো আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখিয়েছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না এবং কোনো শিল্পীর শরীর রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্র হতে পারে না। এই ধরনের সহিংসতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হানার শামিল। তাই দেশের সংস্কৃতিমনা মানুষ এই ঘটনার তীব্র সুরাহা চেয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

দৃশ্যমাধ্যম সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের সক্ষ্য প্রমাণ সাপেক্ষে চিহ্নিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে শিল্পীরা জানান যে, ভয়ভীতি দেখিয়ে শিল্পীদের সৃজনশীল কণ্ঠকে কখনোই দমিয়ে রাখা যাবে না। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনদের মধ্যে দেশের প্রথিতযশা নির্মাতা, অভিনেতা, লেখক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা সবাই এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়েছেন।