মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার বড় প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। দুই দেশের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। গত কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম তেলের দাম এই উচ্চতায় পৌঁছাল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের পাশাপাশি অন্যান্য তেলেরও দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
সম্প্রতি সংঘটিত এই উত্তেজনার মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় তেলবাহী ট্যাংকার ও যুদ্ধজাহাজের ওপর হামলা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার চেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা পদক্ষেপে বেশ কিছু তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকরা নানা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। প্রখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংঘাতের মাত্রা যদি আরও বৃদ্ধি পায় এবং বিকল্প নৌপথগুলোও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তবে আগামীতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও তাদের মূল বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে উৎপাদকরা ধীরে ধীরে বিকল্প ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, তবুও বর্তমান ঝুঁকি অত্যন্ত প্রবল।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্বজুড়ে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন এবং যাতায়াত খাত। এর প্রভাবে বিভিন্ন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি যখন নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন জ্বালানি বাজারের এই নতুন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।




































