বরগুনার আমতলী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের মধ্যে বিদেশ থেকে আনা ফল খাওয়ার পর সাতজন ছাত্রী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোচিং চলাকালীন এই আকস্মিক অসুস্থতার সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তার প্রবাসী বাবার বিদেশ থেকে নিয়ে আসা আখরোট বিদ্যালয়ে এনে সহপাঠীদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিল। ওই আখরোট আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী মিলে খেয়েছিল, যার মধ্যে সাতজন ছাত্রী পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
কোচিং কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ করেই ওই ছাত্রীদের মধ্যে গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমে কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থতা অনুভব করলেও অল্প সময়ের মধ্যে একে একে মোট সাতজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের সবার মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্ট, শারীরিক অস্থিরতা এবং বমির মতো উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়। সহপাঠী ও শিক্ষকদের তৎপরতায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন এবং পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই সাত ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমান হোসেন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে কোচিং চলাকালীন প্রথমে তিনজন এবং পরবর্তীতে আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, সংগৃহীত ওই আখরোটে কোনো ধরনের ফুড পয়জনিং বা বিষক্রিয়া হয়েছিল যার কারণে এই আকস্মিক শারীরিক অবনতি ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল পাল জানান যে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শুভেন্দু রায় উল্লেখ করেন যে আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা বমি, অস্থিরতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
































