ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তাসনিম রিফাতকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় ও রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে তার মরদেহ ঢাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজ জন্মস্থানে পৌঁছানো হয়, যা স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে নির্ধারিত ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনে অংশ নিয়েছিলেন এই তরুণ সেনাসদস্য। ওই সময় হঠাৎ করেই ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলার আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে, যার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সৈনিক তাসনিম রিফাতসহ আরও দুই সেনাসদস্য। নিহত তাসনিম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের একজন নিবেদিতপ্রাণ গানার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে নিহত সেনাসদস্যের কফিন ঢাকা থেকে বিমানযোগে প্রথমে রাজশাহী সেনানিবাসে এবং সেখান থেকে সড়কপথে পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়, যেখানে শোকার্ত স্বজন ও গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বাদ জোহর তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে এই আকস্মিক মৃত্যুতে রিফাতের পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর শোকের পাহাড়। এর আগে তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান, আর এবার একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা আসাদুল ইসলাম সম্পূর্ণ দিশাহারা ও নির্বাক হয়ে পড়েছেন। এছাড়া নিহতের পরিবারে রয়েছে তার আড়াই বছর বয়সের একটি নিষ্পাপ কন্যাসন্তান, যে এখন পিতৃস্নেহ থেকে চিরতরে বঞ্চিত হলো।

জনপ্রিয়

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠন, এপিবিএনের ক্ষমতা বৃদ্ধি

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

প্রকাশিত ০৪:৩১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তাসনিম রিফাতকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় ও রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে তার মরদেহ ঢাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজ জন্মস্থানে পৌঁছানো হয়, যা স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে নির্ধারিত ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনে অংশ নিয়েছিলেন এই তরুণ সেনাসদস্য। ওই সময় হঠাৎ করেই ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলার আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে, যার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সৈনিক তাসনিম রিফাতসহ আরও দুই সেনাসদস্য। নিহত তাসনিম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের একজন নিবেদিতপ্রাণ গানার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে নিহত সেনাসদস্যের কফিন ঢাকা থেকে বিমানযোগে প্রথমে রাজশাহী সেনানিবাসে এবং সেখান থেকে সড়কপথে পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়, যেখানে শোকার্ত স্বজন ও গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বাদ জোহর তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে এই আকস্মিক মৃত্যুতে রিফাতের পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর শোকের পাহাড়। এর আগে তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান, আর এবার একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা আসাদুল ইসলাম সম্পূর্ণ দিশাহারা ও নির্বাক হয়ে পড়েছেন। এছাড়া নিহতের পরিবারে রয়েছে তার আড়াই বছর বয়সের একটি নিষ্পাপ কন্যাসন্তান, যে এখন পিতৃস্নেহ থেকে চিরতরে বঞ্চিত হলো।