জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) আইনি কাঠামো এবং তদন্তের পরিধি আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বিল দুটি উত্থাপন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার জন্য তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ওঠা বিচারবহির্ভূত হত্যা বা ক্রসফায়ারের অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই মূলত এই যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হলো।
তবে সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে নিজেদের আপত্তির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য আইনপ্রণেতারা সতর্ক করে বলেন যে, শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করে নতুন বাহিনী গঠন করা হলে তা জনগণের বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তাদের প্রধান যুক্তি ছিল, বিলে সরাসরি র্যাব বিলুপ্তির স্বতন্ত্র বিধান না রেখে বরং এর জনবল, অস্ত্রশস্ত্র, স্থাপনা, নথিপত্র এবং দায়দেনা নতুন এসআরবিতে স্থানান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। তাই এসআরবির পরিচালনা পদ্ধতি ও তদারকিতে কাঠামোগত পরিবর্তন না আনলে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো এটিকে পুরনো বাহিনীরই আরেকটি রূপ হিসেবে দেখতে পারে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলের এসব সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরিষ্কার করে জানান যে, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই র্যাব পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং এর সঙ্গে নতুন বাহিনীর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকবে না। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধ করার লক্ষ্যেই কেবল পুরনো বাহিনীর অস্ত্র, সরঞ্জাম ও গোয়েন্দা তথ্য নতুন এসআরবিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এছাড়া প্রস্তাবিত অভিযোগ প্রতিকার কমিটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন যে এটি মূলত অভ্যন্তরীণ ও বিভাগীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, আর বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ উঠলে প্রচলিত আইনেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে সমান্তরালভাবে পাস হওয়া এপিবিএন আইনের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরনো অধ্যাদেশ বাতিল করে বাংলায় একটি আধুনিক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামোর ফলে এপিবিএনের দায়িত্বের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাহিনীটি এখন থেকে সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচার, সাইবার অপরাধ, গুম এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ তদন্তের আনুষ্ঠানিক আইনি ক্ষমতা লাভ করেছে। রাষ্ট্রপতি ও ভিআইপিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি এই বিশেষায়িত বাহিনীকে এখন থেকে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ প্রবিধান অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের প্রয়োজনে আটক কেন্দ্র ও জিজ্ঞাসাবাদ সেল পরিচালনা এবং বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগও নতুন এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।



































