যুক্তরাজ্যে চলমান অভিবাসনবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথ শহরে একটি অপ্রত্যাশিত ও বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি দেশটির কসাম এলাকার একটি ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের আশ্রয়প্রার্থী ভেবে ঘিরে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। একটি বাসে করে এশীয় তরুণদের একটি দলের ওই হোটেলে প্রবেশের দৃশ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরই মূলত এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করেছিল যে এই তরুণরা সম্ভবত অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা কোনো অভিবাসী বা শরণার্থী দল।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ওই হোটেলের সামনে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের একজন স্থানীয় কাউন্সিলর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত করেন যে, হোটেলের ভেতরে অবস্থান করা তরুণরা কোনো অভিবাসী নন, বরং তারা পাকিস্তানের বয়সভিত্তিক জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য। এরপর ওই কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় এবং পুলিশের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
হ্যাম্পশায়ার পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। পুলিশ কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন যে তাদের আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সেখানে অবৈধ কোনো কার্যক্রম ঘটছে না। সংক্ষিপ্ত আলোচনার পরই জমায়েত হওয়া লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যায় এবং পুলিশ জানিয়েছে এই ঘটনায় কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়নি। তবে এমন একটি সময়ে এই ঘটনা ঘটল যখন যুক্তরাজ্যে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী ইস্যুটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।
এর মাত্র কয়েকদিন আগে পোর্টসমাউথে অভিবাসীদের একটি দল পৌঁছালে তাদের নামতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন স্থানীয়রা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার জেরে পাকিস্তানের কিশোর ক্রিকেটারদের ভুলবশত লক্ষ্যবস্তু বানানোর তীব্র সমালোচনা করেছে বর্ণবাদবিরোধী সংগঠন ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’। সংগঠনটির জাতীয় সংগঠক মাইকেল ব্র্যাডলি মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। संयोगবশত, একই সময়ে পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলও ইংল্যান্ড সফরে অবস্থান করছিল এবং বার্মিংহামে টেস্ট সিরিজ খেলছিল, যা পুরো পরিস্থিতিটিকে আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


































