ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-সমর্থিত হুথিদের সামরিক তৎপরতা ও অগ্রযাত্রা মোকাবিলা করতে সৌদি আরবকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও লক্ষ্য নির্ধারণমূলক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ অবস্থান করছেন। তাদের মূল দায়িত্ব হলো সৌদি বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা এবং হুথিদের বিভিন্ন গোপন অবস্থান বা ঘাঁটি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সার্বিক সহায়তা করা।

এই সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশেষ যৌথ বাহিনী কমান্ড গঠন করা হয়েছে, যার অধীনে মার্কিন সামরিক সদস্যরা কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের উপযোগী একটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছে, যা মার্কিন পেন্টাগনের অত্যন্ত পরিচিত ‘ম্যাভেন’ ব্যবস্থার সমতুল্য। এছাড়া, ভৌগোলিক ও ভূ-স্থানিক তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুথিদের ওপর আক্রমণ পরিচালনার পথ সুগম করছে ওয়াশিংটন, যদিও মার্কিন পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে তারা সরাসরি কোনো সামরিক হামলায় অংশ নিচ্ছে না বা সৌদি যুদ্ধবিমানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করছে না।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং সম্প্রতি লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখল করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এর আগে সৌদির ভূখণ্ডে হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, এই সংঘাতে ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকশ সদস্য সরাসরি হুথিদের সহায়তা দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক রুট বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে।

মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সৌদি-হুথি সংঘাতে সরাসরি জড়ানোর বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা রয়েছে, কারণ পূর্বের বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের আমলে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল ওয়াশিংটন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী এমনিতেই বহুমুখী চাপের মধ্যে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের নৌ ও বিমান টহল অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এই জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে হুথি হুমকি মোকাবেলার কৌশল নিলেও, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জনপ্রিয়

নাটোর ডায়রিয়ার প্রকোপ, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত ১২:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান-সমর্থিত হুথিদের সামরিক তৎপরতা ও অগ্রযাত্রা মোকাবিলা করতে সৌদি আরবকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও লক্ষ্য নির্ধারণমূলক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ অবস্থান করছেন। তাদের মূল দায়িত্ব হলো সৌদি বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা এবং হুথিদের বিভিন্ন গোপন অবস্থান বা ঘাঁটি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সার্বিক সহায়তা করা।

এই সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশেষ যৌথ বাহিনী কমান্ড গঠন করা হয়েছে, যার অধীনে মার্কিন সামরিক সদস্যরা কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের উপযোগী একটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছে, যা মার্কিন পেন্টাগনের অত্যন্ত পরিচিত ‘ম্যাভেন’ ব্যবস্থার সমতুল্য। এছাড়া, ভৌগোলিক ও ভূ-স্থানিক তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুথিদের ওপর আক্রমণ পরিচালনার পথ সুগম করছে ওয়াশিংটন, যদিও মার্কিন পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে তারা সরাসরি কোনো সামরিক হামলায় অংশ নিচ্ছে না বা সৌদি যুদ্ধবিমানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করছে না।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং সম্প্রতি লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখল করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এর আগে সৌদির ভূখণ্ডে হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, এই সংঘাতে ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকশ সদস্য সরাসরি হুথিদের সহায়তা দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক রুট বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে।

মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সৌদি-হুথি সংঘাতে সরাসরি জড়ানোর বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা রয়েছে, কারণ পূর্বের বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের আমলে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল ওয়াশিংটন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী এমনিতেই বহুমুখী চাপের মধ্যে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের নৌ ও বিমান টহল অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এই জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে হুথি হুমকি মোকাবেলার কৌশল নিলেও, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।