ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে

দৈনন্দিন জীবনের মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও নানা ধরনের ক্লান্তি থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য মানুষ নানা উপায় বেছে নেন। কেউ গান শুনে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মন হালকা করার চেষ্টা করেন। তবে সম্প্রতি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অদ্ভুত প্রবণতা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অর্থের বিনিময়ে পেশিবহুল ও যত্নশীল পুরুষের আলিঙ্গন নিচ্ছেন তরুণীরা। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ সেবার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিটের বিনিময়ে প্রায় ২০ থেকে ৫০ ইউয়ান বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় নয়শ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন শান্ত স্বভাবের ও সুঠাম দেহের অধিকারীদের ‘ম্যান মাম’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

‘ম্যান মাম’ শব্দটির মূল অর্থ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। অতীতে এই পরিভাষাটি মূলত জিমে নিয়মিত যাওয়া পেশিবহুল পুরুষদের বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, বর্তমানে এর অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। এখন এই শব্দটির মাধ্যমে এমন পুরুষদের বোঝানো হয়, যাদের শারীরিক গঠন শক্তপোক্ত হলেও স্বভাব ও আচরণে রয়েছে চরম কোমলতা, ধৈর্য এবং যত্নশীলতা। অর্থাৎ পেশাদার নিরাপত্তার আড়ালে এক শান্ত ও সান্ত্বনা দানকারী ব্যক্তিত্বের ধারণাই এর মূল ভিত্তি। কিছুদিন আগে থিসিসের তীব্র চাপ সামলাতে গিয়ে এক তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একজন ভদ্র পুরুষের কাছ থেকে পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গন পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে এই পুরো ট্রেন্ডটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

এই অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাটি কোনো নির্দিষ্ট পেশাদার কাঠামোর মধ্যে পড়ে না, বরং সম্পূর্ণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক একটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়। সাধারণত অনলাইনে পোস্ট দেওয়ার পর আগ্রহী পুরুষদের শারীরিক গঠন, ভদ্রতা, ধৈর্য ও স্বভাবের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে বেছে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সাক্ষাৎ করার জন্য সাধারণত মেট্রো স্টেশন কিংবা শপিংমলের মতো জনবহুল প্রকাশ্য স্থানগুলোকেই বেছে নেওয়া হয়, যেন পুরো বিষয়টি কেবল সান্ত্বনাদায়ক আলিঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই সেবার সঙ্গে জড়িত কোনো কোনো পুরুষ জানিয়েছেন যে, অপরিচিত কাউকে মানসিক স্বস্তি দিতে পারার মাধ্যমে তারা নিজেরাও এক ধরনের আত্মিক তৃপ্তি ও আত্মমূল্য খুঁজে পান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত আধুনিক শহুরে জীবনের তীব্র একাকিত্ব, ব্যস্ত কর্মপরিবেশ এবং পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কারণেই মানুষ এমন ব্যতিক্রমী পথে হাঁটছে। পরিবার বা পরিচিত বৃত্তের বাইরে গিয়ে অল্প সময়ের জন্য একজন অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই উষ্ণ সান্নিধ্য অনেকেই আবেগগত মুক্তির মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তবে এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক মানসিক চিকিৎসা বা থেরাপি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে এই ধরনের শারীরিক সংযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি চীনের অনেক আইনজীবীও এ বিষয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে জানিয়েছেন যে, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ কেউ এই ব্যবস্থাকে যৌন হয়রানির আড়াল হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে চীনের এই ‘ম্যান মাম’ সংস্কৃতি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মজার বা অদ্ভুত ট্রেন্ড নয়, বরং এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে তীব্র একাকিত্ব ও আবেগগত যোগাযোগের গভীর সংকট। বন্ধু, পরিবার কিংবা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভেতর নিজেদের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করতে না পেরে মানুষ যখন এমন কৃত্রিম উপায়ের ওপর ভরসা করে, তখন তা আধুনিক সমাজের এক ভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রবণতা অন্য কোনো দেশে ছড়িয়ে পড়লে তা কেবল কৌতূহলের বিষয় না রেখে, বরং নিরাপত্তা, সম্মতির প্রশ্ন এবং সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

নাটোর ডায়রিয়ার প্রকোপ, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে

প্রকাশিত ০১:৩১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনন্দিন জীবনের মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও নানা ধরনের ক্লান্তি থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য মানুষ নানা উপায় বেছে নেন। কেউ গান শুনে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মন হালকা করার চেষ্টা করেন। তবে সম্প্রতি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অদ্ভুত প্রবণতা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অর্থের বিনিময়ে পেশিবহুল ও যত্নশীল পুরুষের আলিঙ্গন নিচ্ছেন তরুণীরা। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ সেবার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিটের বিনিময়ে প্রায় ২০ থেকে ৫০ ইউয়ান বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় নয়শ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন শান্ত স্বভাবের ও সুঠাম দেহের অধিকারীদের ‘ম্যান মাম’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

‘ম্যান মাম’ শব্দটির মূল অর্থ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। অতীতে এই পরিভাষাটি মূলত জিমে নিয়মিত যাওয়া পেশিবহুল পুরুষদের বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, বর্তমানে এর অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। এখন এই শব্দটির মাধ্যমে এমন পুরুষদের বোঝানো হয়, যাদের শারীরিক গঠন শক্তপোক্ত হলেও স্বভাব ও আচরণে রয়েছে চরম কোমলতা, ধৈর্য এবং যত্নশীলতা। অর্থাৎ পেশাদার নিরাপত্তার আড়ালে এক শান্ত ও সান্ত্বনা দানকারী ব্যক্তিত্বের ধারণাই এর মূল ভিত্তি। কিছুদিন আগে থিসিসের তীব্র চাপ সামলাতে গিয়ে এক তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একজন ভদ্র পুরুষের কাছ থেকে পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গন পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে এই পুরো ট্রেন্ডটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

এই অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাটি কোনো নির্দিষ্ট পেশাদার কাঠামোর মধ্যে পড়ে না, বরং সম্পূর্ণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক একটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়। সাধারণত অনলাইনে পোস্ট দেওয়ার পর আগ্রহী পুরুষদের শারীরিক গঠন, ভদ্রতা, ধৈর্য ও স্বভাবের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে বেছে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সাক্ষাৎ করার জন্য সাধারণত মেট্রো স্টেশন কিংবা শপিংমলের মতো জনবহুল প্রকাশ্য স্থানগুলোকেই বেছে নেওয়া হয়, যেন পুরো বিষয়টি কেবল সান্ত্বনাদায়ক আলিঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই সেবার সঙ্গে জড়িত কোনো কোনো পুরুষ জানিয়েছেন যে, অপরিচিত কাউকে মানসিক স্বস্তি দিতে পারার মাধ্যমে তারা নিজেরাও এক ধরনের আত্মিক তৃপ্তি ও আত্মমূল্য খুঁজে পান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত আধুনিক শহুরে জীবনের তীব্র একাকিত্ব, ব্যস্ত কর্মপরিবেশ এবং পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কারণেই মানুষ এমন ব্যতিক্রমী পথে হাঁটছে। পরিবার বা পরিচিত বৃত্তের বাইরে গিয়ে অল্প সময়ের জন্য একজন অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই উষ্ণ সান্নিধ্য অনেকেই আবেগগত মুক্তির মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তবে এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক মানসিক চিকিৎসা বা থেরাপি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে এই ধরনের শারীরিক সংযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি চীনের অনেক আইনজীবীও এ বিষয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে জানিয়েছেন যে, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ কেউ এই ব্যবস্থাকে যৌন হয়রানির আড়াল হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে চীনের এই ‘ম্যান মাম’ সংস্কৃতি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মজার বা অদ্ভুত ট্রেন্ড নয়, বরং এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে তীব্র একাকিত্ব ও আবেগগত যোগাযোগের গভীর সংকট। বন্ধু, পরিবার কিংবা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভেতর নিজেদের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করতে না পেরে মানুষ যখন এমন কৃত্রিম উপায়ের ওপর ভরসা করে, তখন তা আধুনিক সমাজের এক ভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রবণতা অন্য কোনো দেশে ছড়িয়ে পড়লে তা কেবল কৌতূহলের বিষয় না রেখে, বরং নিরাপত্তা, সম্মতির প্রশ্ন এবং সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।