ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ Logo ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত Logo সরকারি পে-স্কেল অনুমোদন: বেসরকারি কর্মীদের বেতন-চাকরির সুরক্ষা কতদূর? Logo পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হলো ভাই-বোনের মরদেহ Logo ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ Logo ২২ বছর আগের ভ্রূণ থেকে মা হলেন গ্রিক নারী Logo দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দাপুটে জয়ে সিরিজ রিশাদ-সাইফদের দখলে Logo গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে Logo লাল বলের ক্রিকেটই আমার শেষ আশ্রয়: আফ্রিদি Logo ‘অতিমাত্রায় রাজনীতিতে শিক্ষকরা’, লাগাম টানতে হচ্ছে আচরণবিধি

রোগীর পরীক্ষা হয় বাইরে, হাতেনাতে প্রমাণ পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রক্ত পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের কাছ থেকে তা বাইরে করানোর একটি গুরুতর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সম্প্রতি হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এই অনিয়মের হাতেনাতে প্রমাণ পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার নানা কাগজ ও পরীক্ষার রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখেন। এ সময় বাইরে থেকে লোক এসে সরকারি হাসপাতাল থেকেই রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য তার নজরে আসে।

সাংবাদিকদের সামনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন জরুরি পরীক্ষার সরকারি ব্যবস্থা থাকার পরও বেশ কিছু বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার চক্রাকারে রোগীদের হয়রানি করে আসছে। জমজম, সততা ও সানের মতো কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন হাসপাতালের ভেতরে এসে রক্ত সংগ্রহ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ রয়েছে, সেখানে এই ধরনের বাণিজ্যিক সিন্ডিকেটের তৎপরতা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন বিষয়টি নজর এড়িয়ে গেছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন মন্ত্রী।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নানা অব্যবস্থাপনা ও রোগীদের ভোগান্তির চিত্রও মন্ত্রীর সামনে উঠে আসে। ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনেরা অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালের লিফট নিয়মিত সচল থাকে না, যার ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে বা নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন তলায় ছোটাছুটি করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার সার্বিক মান, কোন কোন পরীক্ষা বাইরে থেকে করানো হচ্ছে এবং রিপোর্ট কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

এ সময় চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্য খাতের যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে সরকারের এমন কঠোর ও আকস্মিক পরিদর্শনের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

রোগীর পরীক্ষা হয় বাইরে, হাতেনাতে প্রমাণ পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত ০১:০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রক্ত পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের কাছ থেকে তা বাইরে করানোর একটি গুরুতর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সম্প্রতি হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এই অনিয়মের হাতেনাতে প্রমাণ পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার নানা কাগজ ও পরীক্ষার রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখেন। এ সময় বাইরে থেকে লোক এসে সরকারি হাসপাতাল থেকেই রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য তার নজরে আসে।

সাংবাদিকদের সামনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন জরুরি পরীক্ষার সরকারি ব্যবস্থা থাকার পরও বেশ কিছু বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার চক্রাকারে রোগীদের হয়রানি করে আসছে। জমজম, সততা ও সানের মতো কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন হাসপাতালের ভেতরে এসে রক্ত সংগ্রহ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ রয়েছে, সেখানে এই ধরনের বাণিজ্যিক সিন্ডিকেটের তৎপরতা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন বিষয়টি নজর এড়িয়ে গেছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন মন্ত্রী।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নানা অব্যবস্থাপনা ও রোগীদের ভোগান্তির চিত্রও মন্ত্রীর সামনে উঠে আসে। ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনেরা অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালের লিফট নিয়মিত সচল থাকে না, যার ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে বা নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন তলায় ছোটাছুটি করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার সার্বিক মান, কোন কোন পরীক্ষা বাইরে থেকে করানো হচ্ছে এবং রিপোর্ট কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

এ সময় চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্য খাতের যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে সরকারের এমন কঠোর ও আকস্মিক পরিদর্শনের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।