লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনীমোহন ইউনিয়ন পরিষদে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কাগজে-কলমে অর্জন করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী আবুল বাছের সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন ৭৪টি শিশুর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। বাস্তবে কোনো শিশুর জন্ম বা মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও সরকারি খাতায় তাদের অস্তিত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের মাত্র কয়েক দিন কিংবা কয়েক মাসের ব্যবধানেই শিশুগুলোকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়ায় এমন জালিয়াতি জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাধারণত জন্ম ও মৃত্যু হার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও, এখানে কেবল প্রশাসনিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ বা অন্য কোনো ফায়দা হাসিলের জন্যই এই কাল্পনিক ঘটনার অবতারণা করা হয়।
এ ধরনের অনিয়ম কেবল সরকারি নথিপত্রের বিশ্বস্ততাই নষ্ট করে না, বরং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকেও সংকটে ফেলে। কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই এতগুলো ভুয়া নিবন্ধন কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়েছিল, তা নিয়ে এখন নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বড় চক্র বা স্বার্থ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে এমন ভুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করায় অভিযুক্ত সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি দায়িত্ব অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধ করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।




































