চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে হাজেরা বেগম নামের এক নারী রোগীর মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রোগীর মৃত্যু হয় বলে তার পরিবার দাবি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিল রোগে ভোগার কারণে হাজেরা বেগমকে কয়েকদিন আগে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং সেখানেই তার মর্মান্তিক এই পরিণতি ঘটে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে তারা চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন। সেই মুহূর্তে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি রোগীকে দেখতে আসেননি। বরং ওই চিকিৎসক তার নিজস্ব কক্ষে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যস্ত ছিলেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, বহু আকুতি-মিনতির পর চিকিৎসক রোগীকে নিজে দেখতে আসার পরিবর্তে তাকে বেড থেকে কাঁধে করে নিজের কক্ষে নিয়ে আসার আজব ও অমানবিক নির্দেশ দেন। রোগীর স্বামী আক্তার হোসেন একা মানুষ হওয়ায় অসুস্থ স্ত্রীকে কাঁধে করে নেওয়ার মতো শারীরিক সামর্থ্য বা পরিস্থিতি তার ছিল না। পরবর্তীতে চিকিৎসক নিজে না এসে কেবল অক্সিজেন সরবরাহের পরামর্শ দিয়েই দায় সারেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য নিতে সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হলে হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার তাদের বাধা দেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লিভারের জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা বা আইসিইউ সুবিধা ছিল না এবং রোগীর উন্নত সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। এদিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল জানিয়েছেন, কর্তব্যে অবহেলার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

































