ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দেড়শ বছর আগে মানুষের দেহের তাপমাত্রা বেশি ছিল, কিন্তু কেন? Logo মিরপুরে হামলা-সংঘর্ষের মামলায় আসামি সাড়ে ১০ হাজার, গ্রেপ্তার ২২ Logo গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে আগুন, আহত বিজিবি সদস্য Logo মেইকআপ না তুলেই ঘুম? ত্বকের পাশাপাশি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে Logo মুক্তির আগেই ৯০ কোটি রুপির চুক্তিতে শ্রদ্ধা কাপুরের ‘ইথা’ Logo পঞ্চম মৌসুমে ফিরছে নেটফ্লিক্সের ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ Logo ইন্টারনেটের এমবিপিএস ও এমবি/এস গতির পার্থক্য কীভাবে বুঝবেন? Logo দিলীপ আগরওয়ালা এবার দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার Logo শিক্ষক নিয়োগ: রায় জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি, রায় ঘোষণা ২৬ নভেম্বর Logo শাহরুখের ৬১, বুর্জ খলিফা আলোকিত বিশেষ বার্তায়

রাজবাড়ীতে শাহ আব্দুল করি‌ম স্মরণে উৎসব, শিল্পীরা পে‌লেন সম্মাননা

সম্প্রতি রাজবাড়ী শহরের আজাদী ময়দানে বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের স্মরণে এক বিশেষ লোকসংগীত উৎসবের আয়োজন করা হয়। ‘মুক্ত আনন্দের রাজবাড়ী’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাউল সাধকরা অংশ নেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ময়দানে উপস্থিত শত শত শ্রোতা-দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশটি এক দারুণ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি পারভীন হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলার তৎকালীন প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ এম বাচ্চু রহমান, লোক গবেষক সুমন কুমার দাস, সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক অজয় দাস তালুকদার এবং জেলা জাসাসের সদস্য সচিব কাজী মিজানুর রহমান পলাশ। পুরো আলোচনা সভাটি অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন মীর মোশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাকুল আলম।

আলোচনা পর্ব শেষে রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকার মোট ১৬ জন talented বাউল শিল্পী মঞ্চে তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জনপ্রিয় সব গান গেয়ে তারা উপস্থিত দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। লোকসংগীতের এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা শেষে গান পরিবেশনকারী প্রতিটি বাউল শিল্পীকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন যে গান সবসময় মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও মানবতার বাণী প্রচার করে। বাউলদের গানে প্রেম ও মানবতাবাদের পাশাপাশি পরম সত্তার সান্নিধ্য লাভের বার্তা লুকিয়ে থাকে। চরম অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিকূলতার মাঝেও কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী শাহ আবদুল করিম আজীবন গান গেয়ে গেছেন এবং প্রায় ষোলোশ গান রচনা করে গেছেন। তার এই অমূল্য সৃষ্টিগুলো যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকে এবং লোকসংসর্গ ও বাউল দর্শন নিয়ে সমাজে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি না থাকে, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয়

দেড়শ বছর আগে মানুষের দেহের তাপমাত্রা বেশি ছিল, কিন্তু কেন?

রাজবাড়ীতে শাহ আব্দুল করি‌ম স্মরণে উৎসব, শিল্পীরা পে‌লেন সম্মাননা

প্রকাশিত ০৪:০১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি রাজবাড়ী শহরের আজাদী ময়দানে বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের স্মরণে এক বিশেষ লোকসংগীত উৎসবের আয়োজন করা হয়। ‘মুক্ত আনন্দের রাজবাড়ী’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাউল সাধকরা অংশ নেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ময়দানে উপস্থিত শত শত শ্রোতা-দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশটি এক দারুণ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি পারভীন হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলার তৎকালীন প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ এম বাচ্চু রহমান, লোক গবেষক সুমন কুমার দাস, সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক অজয় দাস তালুকদার এবং জেলা জাসাসের সদস্য সচিব কাজী মিজানুর রহমান পলাশ। পুরো আলোচনা সভাটি অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন মীর মোশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাকুল আলম।

আলোচনা পর্ব শেষে রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকার মোট ১৬ জন talented বাউল শিল্পী মঞ্চে তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জনপ্রিয় সব গান গেয়ে তারা উপস্থিত দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। লোকসংগীতের এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা শেষে গান পরিবেশনকারী প্রতিটি বাউল শিল্পীকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন যে গান সবসময় মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও মানবতার বাণী প্রচার করে। বাউলদের গানে প্রেম ও মানবতাবাদের পাশাপাশি পরম সত্তার সান্নিধ্য লাভের বার্তা লুকিয়ে থাকে। চরম অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিকূলতার মাঝেও কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী শাহ আবদুল করিম আজীবন গান গেয়ে গেছেন এবং প্রায় ষোলোশ গান রচনা করে গেছেন। তার এই অমূল্য সৃষ্টিগুলো যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকে এবং লোকসংসর্গ ও বাউল দর্শন নিয়ে সমাজে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি না থাকে, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।