প্রযুক্তি ডেস্ক: ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানি বেছে নেওয়ার সময় কারিগরি পরিভাষার মারপ্যাঁচে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিতে পড়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্ববহ ভুলটি ঘটে মেগাবিটস প্রতি সেকেন্ড এবং মেগাবাইটস প্রতি সেকেন্ডের পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণে। পরিমাপের এই দুটি এককই ডেটা স্থানান্তরের হার বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও দুটির অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে বিট ও বাইটের মৌলিক ব্যবধান পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।
কম্পিউটিং ব্যবস্থায় তথ্যের সবচেয়ে মৌলিক একক হলো বিট, যা বাইনারি সংকেতের শূন্য ও এক প্রকাশ করে। ইন্টারনেট স্ট্রিমিং বা ফাইল ডাউনলোডের সময় ডেটা স্থানান্তরের গতি মাপতে সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে কত বিট পরিবাহিত হচ্ছে তা হিসাব করা হয়। অন্যদিকে, আটটি বিট মিলে তৈরি হয় একটি বাইট, যা কোনো বর্ণ বা সংখ্যা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। ডিজিটাল ফাইলের আকার বা স্টোরেজ ক্ষমতা প্রকাশের ক্ষেত্রেই মূলত বাইট পরিমাপটি কাজে লাগানো হয়।
বাড়ির ইন্টারনেটের গতি যাচাইয়ের জন্য প্রতি সেকেন্ডে মেগাবিটের হার বা এমবিপিএস জানা অত্যন্ত জরুরি। মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ন্যূনতম মানদণ্ড হিসেবে একশ এমবিপিএস গতি ধরা হয়েছে। ওকলার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন পরিবারগুলোর গড় ডাউনলোড ও আপলোড গতি গত এক দশকে বিস্ময়কর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবহারকারী চাইলে সহজ কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের সংযোগের এই গতি বাড়িয়ে নিতে পারেন।
পক্ষান্তরে, মেগাবাইটস পার সেকেন্ড বা এমবি/এস সাধারণত কোনো সংরক্ষণ মাধ্যমে বড় ডেটা স্থানান্তরের গতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ক্লাউডে ফাইল আপলোড বা হার্ড ডিস্ক থেকে ডেটা সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই একক দিয়ে হিসাব করা হয়। এই পরিমাপের মাধ্যমে খুব সহজেই বোঝা যায় একটি ভিডিও ফাইল ডাউনলোড করতে কত সময় লাগবে। পরিমাপ দুটি গুলিয়ে ফেলার সুযোগ থাকলেও এমবিপিএস মানকে কেবল আট দিয়ে ভাগ করলেই এর সঠিক রূপান্তর পাওয়া সম্ভব।




































