ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিবাহিনীর ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী তৎপরতা এবং সৌদির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার মুখে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে রিয়াদ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিজেদের কৌশলগত অবস্থান রক্ষার্থে তারা কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে বেশ সীমিত কিছু উপায় হাতে রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, সামরিক কিংবা কূটনৈতিক—যে মাধ্যমেই এগোতে চাওয়া হোক না কেন, প্রতিটি পদক্ষেপেরই মারাত্মক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা চড়া মূল্য চুকানোর ঝুঁকি রয়েছে।
কয়েক দশক ধরে ইয়েমেনের গৃহদ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকা সৌদি আরব এখন এমন একটি সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে যেখানে তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পুরো অঞ্চলে নতুন করে চরম অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। হুথিরা সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে এবং আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি স্থাপনাগুলোর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে থাকা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সর্বাত্মক আক্রমণ চালানোও রিয়াদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি নেতৃত্ব বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করলেও হুথিদের ওপর তার কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, সামরিক উপায়ে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দমন করতে গেলে ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে আরও বেশি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা বিগত বছরগুলোতে সৌদি আরবের জন্য খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সমঝোতার মাঝখানে পড়ে রিয়াদ বর্তমানে এক ধরণের কৌশলগত জটিলতার ভেতর দিয়ে সময় পার করছে।
এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সৌদি নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলার কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। যেকোনো হঠকারী বা আবেগের বশে নেওয়া পদক্ষেপ তাদের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভিশন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রিয়াদকে অত্যন্ত পরিপক্ব ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।




































