সৌদি আরবের লোহিত সাগরগামী প্রধান পাইপলাইনটি নিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সচল করা না হয়, তবে দেশটির রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদির এই সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহে প্রায় চার শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দেওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে জ্বালানি তেলের বাজারে এই ধরনের বড় ধরনের পতন বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদি আরব বৈশ্বিক তেলের বাজারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হওয়ায় তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্নও পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করতে পারে। পাইপলাইন বন্ধ থাকার কারণে বিকল্প উপায়ে তেল রপ্তানি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে একধরনের অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করতে শুরু করেছে, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা পাইপলাইনটি দ্রুততম সময়ে পুনরায় চালু করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কতদিনের মধ্যে এটি পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।




































