ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংকের এমডিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের কাঠামো

দেশের ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদার করার লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) জন্য একটি নতুন ও আধুনিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন কাঠামো প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে। মূলত ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতি ও এমডিদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই নিয়মের আওতায় একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যক্রম সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য সর্বমোট ১০০ নম্বরের একটি অভিন্ন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর এমডিদের এই কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা করা হবে, যার ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে কর্মরত এমডিদের ক্ষেত্রে আগামী অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়কালকে প্রথম মূল্যায়ন পর্ব হিসেবে ধরা হবে। পরবর্তীতে নতুন কোনো এমডি নিয়োগ পেলে তার দায়িত্ব গ্রহণের পরের ছয় মাসের পারফরম্যান্স এই কাঠামোর অধীনে মূল্যায়ন করা হবে।

নির্ধারিত এই ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি মোট পাঁচটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি বা খাতের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, জরুরি মুহূর্তের তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি মোকাবিলা ক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ২৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণ হ্রাস করা, অবলোপনকৃত ঋণ আদায় এবং শীর্ষ ২০ জন ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের অতিমাত্রিক কেন্দ্রীভবন নিয়ন্ত্রণের জন্যও আরও ২৫ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের নির্দেশনা মেনে চলা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও ২৫ নম্বর রাখা হয়েছে।

বাকি নম্বরগুলোর মধ্যে আর্থিক খাতের অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকের ভূমিকার জন্য ১৫ নম্বর এবং মুনাফা অর্জন ও পরিচালন ব্যয়ের দক্ষতার জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এই মাপকাঠির মধ্যে কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের ঋণ বিতরণ, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন বা গ্রিন ফাইন্যান্স, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তার এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষেই তা কার্যকর বলে গণ্য হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি সূচকে এমডিদের অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এর চেয়ে কম অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট সূচকে কোনো নম্বর দেওয়া হবে না। এমনকি কিছু বিশেষ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে অতিরিক্ত পেনাল্টি বা জরিমানা কেটে নেওয়া হবে। সামগ্রিক মূল্যায়নে ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেলে তা সন্তোষজনক মনে করা হবে, ৬৫ থেকে ৭৫-এর কম পেলে তা মাঝারি মানের এবং এর নিচে পেলে নিম্নমানের পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য করা হবে। এই কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশে মাদক নির্মূলে খেলাধুলার বিকল্প নেই: বিমানমন্ত্রী

ব্যাংকের এমডিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের কাঠামো

প্রকাশিত ০৩:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদার করার লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) জন্য একটি নতুন ও আধুনিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন কাঠামো প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে। মূলত ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতি ও এমডিদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই নিয়মের আওতায় একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যক্রম সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য সর্বমোট ১০০ নম্বরের একটি অভিন্ন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর এমডিদের এই কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা করা হবে, যার ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে কর্মরত এমডিদের ক্ষেত্রে আগামী অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়কালকে প্রথম মূল্যায়ন পর্ব হিসেবে ধরা হবে। পরবর্তীতে নতুন কোনো এমডি নিয়োগ পেলে তার দায়িত্ব গ্রহণের পরের ছয় মাসের পারফরম্যান্স এই কাঠামোর অধীনে মূল্যায়ন করা হবে।

নির্ধারিত এই ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি মোট পাঁচটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি বা খাতের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, জরুরি মুহূর্তের তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি মোকাবিলা ক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ২৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণ হ্রাস করা, অবলোপনকৃত ঋণ আদায় এবং শীর্ষ ২০ জন ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের অতিমাত্রিক কেন্দ্রীভবন নিয়ন্ত্রণের জন্যও আরও ২৫ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের নির্দেশনা মেনে চলা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও ২৫ নম্বর রাখা হয়েছে।

বাকি নম্বরগুলোর মধ্যে আর্থিক খাতের অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকের ভূমিকার জন্য ১৫ নম্বর এবং মুনাফা অর্জন ও পরিচালন ব্যয়ের দক্ষতার জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এই মাপকাঠির মধ্যে কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের ঋণ বিতরণ, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন বা গ্রিন ফাইন্যান্স, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তার এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষেই তা কার্যকর বলে গণ্য হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি সূচকে এমডিদের অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এর চেয়ে কম অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট সূচকে কোনো নম্বর দেওয়া হবে না। এমনকি কিছু বিশেষ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে অতিরিক্ত পেনাল্টি বা জরিমানা কেটে নেওয়া হবে। সামগ্রিক মূল্যায়নে ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেলে তা সন্তোষজনক মনে করা হবে, ৬৫ থেকে ৭৫-এর কম পেলে তা মাঝারি মানের এবং এর নিচে পেলে নিম্নমানের পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য করা হবে। এই কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।