ইংল্যান্ডের মাটিতে সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। সেই ব্যর্থতার জেরে দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের অন্যতম ছিলেন সালমান আলী আগা। তবে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার হতাশা বেশ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেই ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ান টুর্নামেন্টে কিংসমেন একাডেমির জার্সিতে মার্কহোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলেন সালমান। ম্যাচের শুরুতে মাত্র ৭২ রান সংগ্রহ করতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল তার দল। সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলের হাল ধরে প্রথম দিনেই দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। এরপর মোহাম্মদ সুলেমানের সঙ্গে একটি চমৎকার ও অবিচ্ছিন্ন ১৮৫ রানের জুটি গড়ে দলের ইনিংসকে মজবুত করেন।
ধৈর্যশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী চালিয়ে সেঞ্চুরিকে প্রথমে ডাবল এবং পরবর্তীতে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন সালমান আলী আগা। এর আগে তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১৬৯ রানের। ফলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়াটা তার দীর্ঘ ক্রিকেটীয় জীবনের অন্যতম সেরা এবং স্মরণীয় এক অর্জন হয়ে রইল।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সালমান। কিন্তু হেডিংলিতে বড় ব্যবধানে হারের পর একাদশ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে দলের পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় আরও ছয়জন ক্রিকেটারের সঙ্গে তাকেও স্কোয়াড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জাতীয় দল থেকে এমন আকস্মিক বাদ পড়ার পর ঘরোয়া আসরে এই রেকর্ড গড়া ইনিংসটিকে নির্বাচকদের প্রতি তার একটি নীরব জবাব হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।































