জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় রাজমিস্ত্রি মো বাকুল মৃধা নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আইনি কার্যক্রম নতুন মোড় নিয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য বিচারিক আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এই অভিযোগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে এই চার্জশিট জমা দিয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান ইরফান আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত নাম রয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও বরিশালের সাবেক দুই মেয়রসহ একাধিক সাবেক সংসদ সদস্য এবং পুলিশের শীর্ষপর্যায়ের সাবেক কর্মকর্তারাও এই মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন স্থানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রাজমিস্ত্রি বাবুল মৃধা তার নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে ওই এলাকায় আন্দোলনকারীদের মাঝে অবস্থান করছিলেন এবং সে সময় আকস্মিক গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ধাপে ধাপে অন্যান্য হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে পুলিশ শেষ পর্যন্ত ৩৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আজকের এই শুনানির মাধ্যমে আদালত নির্ধারিত করবে যে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি আমলে নেওয়া হবে কি না এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোবে। এই বিচারপ্রক্রিয়া ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও দৃষ্টি রয়েছে।




































