ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক Logo জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ নীতি Logo জি২০ সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক Logo মহাকাশে নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সামরিক স্কোয়াড্রন গড়ল যুক্তরাজ্য Logo মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু, আলোচনায় যারা Logo মহানবী (সা.)-কে নিয়ে পোস্টের জেরে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড Logo এফবিআইয়ের গোয়েন্দাদের হাজার হাজার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি Logo ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সংঘাত বন্ধ করা নিয়ে নতুন আশাবাদ Logo বিশ্বকাপের পর অবসরের কথা ভাবলেও কেন মত বদলালেন রোনালদো

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে পোস্টের জেরে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র কাবা শরিফকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়েছেন শিবারাসা অনোজন নামের এক শ্রীলঙ্কান যুবক। শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের নারপিট্টিমুনাই এলাকার এই বাসিন্দা জীবিকার তাগিদে মাত্র কয়েক মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মূলত অনলাইনে একটি ধর্মীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় সংকটে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, অনোজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন এবং মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই পোস্টটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ আকারে পাঠানো হয়। জানা গেছে, শ্রীলঙ্কায় একটি তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে হিন্দু ও মুসলিম ব্যবহারকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার জেরে ওই বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। আদালতে অনোজনের আইনজীবীরা দাবি করেন যে, তিনি পোস্ট করার মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই তা মুছে ফেলেছিলেন এবং আবেগের বশে এমনটি ঘটলেও ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

প্রাথমিকভাবে সৌদির একটি আদালত সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও বিশাল অঙ্কের জরিমানা করলেও, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায় আসার পর শ্রীলঙ্কা জুড়ে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটির সরকার নাগরিকের জীবন বাঁচাতে নড়েচড়ে বসে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে, অনোজনের আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে এবং তাঁর পরিবারকে ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হবে।

নাগরিকের জীবন রক্ষার্থে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় মাধ্যমেই জোর তৎপরতা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনোজনের বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং সৌদি বাদশাহর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমার আবেদন জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম সংগঠনও যৌথভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনোজনকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছে। রিয়াদে অবস্থিত শ্রীলঙ্কান দূতাবাস পুরো বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

জনপ্রিয়

ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে পোস্টের জেরে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত ০২:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র কাবা শরিফকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়েছেন শিবারাসা অনোজন নামের এক শ্রীলঙ্কান যুবক। শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের নারপিট্টিমুনাই এলাকার এই বাসিন্দা জীবিকার তাগিদে মাত্র কয়েক মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মূলত অনলাইনে একটি ধর্মীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় সংকটে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, অনোজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন এবং মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই পোস্টটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ আকারে পাঠানো হয়। জানা গেছে, শ্রীলঙ্কায় একটি তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে হিন্দু ও মুসলিম ব্যবহারকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার জেরে ওই বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। আদালতে অনোজনের আইনজীবীরা দাবি করেন যে, তিনি পোস্ট করার মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই তা মুছে ফেলেছিলেন এবং আবেগের বশে এমনটি ঘটলেও ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

প্রাথমিকভাবে সৌদির একটি আদালত সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও বিশাল অঙ্কের জরিমানা করলেও, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায় আসার পর শ্রীলঙ্কা জুড়ে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটির সরকার নাগরিকের জীবন বাঁচাতে নড়েচড়ে বসে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে, অনোজনের আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে এবং তাঁর পরিবারকে ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হবে।

নাগরিকের জীবন রক্ষার্থে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় মাধ্যমেই জোর তৎপরতা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনোজনের বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং সৌদি বাদশাহর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমার আবেদন জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম সংগঠনও যৌথভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনোজনকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছে। রিয়াদে অবস্থিত শ্রীলঙ্কান দূতাবাস পুরো বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।