যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার ও বাণিজ্যিকভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা রোধ করতে নতুন ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। মূলত বাণিজ্যিক বার্থ ট্যুরিজম নেটওয়ার্কগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সুযোগ নিয়ে দেশটিতে সন্তান প্রসবের হার বেড়ে যাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই অনৈতিক চক্রগুলো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম করছে।
বাণিজ্যিক বার্থ ট্যুরিজম হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে গর্ভবতী নারীরা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করে সন্তান প্রসব করেন, যাতে নবজাতক স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদেশি মধ্যস্বত্বভোগী ও এজেন্সি এই সুযোগটি ব্যবহার করে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্যাকেজ অফার করে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত অভিবাসন নীতির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং এটি আইনগত ফাঁকফোকরের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যারা গর্ভবতী অবস্থায় ভ্রমণের আবেদন করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মনে করে, এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা না হলে অভিবাসন প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ভিসা প্রার্থীর ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য যাচাইয়ের ওপর এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই কড়াকড়ির ফলে বার্থ ট্যুরিজমের নামে চলা অবৈধ বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামবে এবং প্রকৃত পর্যটক ও সাধারণ ভ্রমণকারীরা উপকৃত হবেন। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে নজরদারি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকত্ব আইনের পবিত্রতা রক্ষা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।































