যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যক্রম চলাকালেই দেশটির পরবর্তী অর্থাৎ ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাঠ গরম করার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছেন। এর ফলে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা ক্রমান্বয়ে তীব্র আকার ধারণ করছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এমন সব অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইপর্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজনীতিবিদদের জন্য এই সময়ে এসে বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠা এবং মাঠ চষে বেড়ানো খুব একটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই সময়টি তাদের দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার দারুণ সুযোগ তৈরি করে দেয়। প্রার্থীরা এ সময় নিজেদের প্রচার কৌশল ও বক্তব্য যাচাই করে নেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক অঙ্গরাজ্যগুলোতে অনানুষ্ঠানিক সাংগঠনিক ভিত গড়ে তুলছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচন নিয়ে এই তোড়জোড় যেন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দীর্ঘ একটি রাজনৈতিক যুগের সমাপ্তির আভাস।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট শিবিরও গত নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি পুনর্গঠনের কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন রাজ্যে নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। এর মধ্যে নিউইয়র্কের প্রতিনিধি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ একটি শক্তিশালী প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর মতো প্রভাবশালী নেতারাও নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের অন্দরেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ থেমে নেই। দলটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রভাব বলয়ের ভেতরে থেকেই পরবর্তী শীর্ষ পদের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া সিনেটর টেড ক্রুজ এবং রান্ড পলসহ আরও বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছেন। মার্কিন গণতন্ত্র যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন এই প্রাথমিক নির্বাচনী প্রস্তুতি দেশটির রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।































