ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চুয়েটে আন্দোলনের পঞ্চম দিন, নতুন উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ শিক্ষার্থীদের Logo তিন জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের Logo যৌন নিপীড়ন ও প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শাস্তিপ্রাপ্ত কুবির তিন শিক্ষকের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত Logo জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সন্দেহে আটক ২৬০ Logo ‘লিডারশিপ অ্যান্ড একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য Logo ‘কিউআর কোডে বাড়বে ২ লাখ কোটি টাকার কর আদায়’- বাকৃবিতে গভর্নর Logo সুপার এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিও এখন রঙিন ফুলের বাগান Logo রুটি দিয়ে ত্বকের যত্ন! জেনে নিন ত্বকযত্নে বাসি রুটির জাদুকরি ভূমিকার কথা Logo দিনদুপুরে অস্ত্র হাতে সোনার দোকানে ডাকাতি, রক্ষা পাননি ক্রেতাও
অসুস্থ হলেও সিঁড়িই ভরসা

১০ তলা ভবনে নেই লিফট, সিঁড়িতেই কাটছে বাকৃবি ছাত্রীদের জীবন

‎‎‎আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নির্মিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১০ তলাবিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া হল চালুর এক বছর পার হলেও এখনও লিফটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ৩৫০ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫৪৪ জন । ফলে বহুতল এই ভবনে নিয়মিত সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে দৈনন্দিন যাতায়াত ও জরুরি চিকিৎসাসেবায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের।
‎
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‎পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি হলের ৮ম তলায় থাকি যার কারণে প্রতিদিন আমাকে অনেক সিঁড়ি ওঠানামা করতে হয়। ক্লাস শেষে ক্লান্ত শরীরে এত ওপরে উঠতে গিয়ে মাঝে মাঝে শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। আমাদের ক্যান্টিনও নিচতলায়। খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। শারীরিক অবস্থা এতটাই অস্থিতিশীল হয়ে যায় যেনো মনে হয় কখন হয়তো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে অজ্ঞান হয়ে যাবো।
‎
‎প্রথম বর্ষের অপর এক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ১০ম তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। একবার ওপরে উঠলে আবার কোনোভাবেই নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। এ কারণে অনেক সময় দিনে এক বেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। এ ছাড়া আমাদের রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।
‎
‎হলে অবস্থানরত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হল অথচ লিফট নেই এরকম ঘটনা বিরল। হলে লিফট না থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকালে-বিকাল ক্লাসের তাগিদে এবং অন্তত তিন বেলা খাবারের প্রয়োজনে এই দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে ওঠা আমাদের শারীরিক ও মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সবচেয়ে ঝামেলায় আমাদের পড়তে হয় যখন ১০ম তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হেলথকেয়ার নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা শেষে পুনরায় উপরে তুলে আনা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।
‎
‎
‎শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এটি সমাধানের জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
‎নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমি আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের উঠানামার কষ্ট অনেকখানি কমে যাবে। ১০ তলা পর্যন্ত সিড়ি দিয়ে উঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক তা আমরা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে গভীরভাবে অনুভব করি।
‎
‎
‎লিফট চালুর কাজের অগ্রগতির ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক বলেন, খালেদা জিয়া হলে জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ এটি স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তিন তলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করার পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ আসলেও কাজ শুরু হয়নি। নিয়মিত সার্ভিসিং বজায় রেখে এটি চালুর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।
‎

জনপ্রিয়

চুয়েটে আন্দোলনের পঞ্চম দিন, নতুন উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ শিক্ষার্থীদের

অসুস্থ হলেও সিঁড়িই ভরসা

১০ তলা ভবনে নেই লিফট, সিঁড়িতেই কাটছে বাকৃবি ছাত্রীদের জীবন

প্রকাশিত ০৮:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎‎‎আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নির্মিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১০ তলাবিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া হল চালুর এক বছর পার হলেও এখনও লিফটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ৩৫০ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫৪৪ জন । ফলে বহুতল এই ভবনে নিয়মিত সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে দৈনন্দিন যাতায়াত ও জরুরি চিকিৎসাসেবায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের।
‎
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‎পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি হলের ৮ম তলায় থাকি যার কারণে প্রতিদিন আমাকে অনেক সিঁড়ি ওঠানামা করতে হয়। ক্লাস শেষে ক্লান্ত শরীরে এত ওপরে উঠতে গিয়ে মাঝে মাঝে শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। আমাদের ক্যান্টিনও নিচতলায়। খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। শারীরিক অবস্থা এতটাই অস্থিতিশীল হয়ে যায় যেনো মনে হয় কখন হয়তো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে অজ্ঞান হয়ে যাবো।
‎
‎প্রথম বর্ষের অপর এক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ১০ম তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। একবার ওপরে উঠলে আবার কোনোভাবেই নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। এ কারণে অনেক সময় দিনে এক বেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। এ ছাড়া আমাদের রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।
‎
‎হলে অবস্থানরত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হল অথচ লিফট নেই এরকম ঘটনা বিরল। হলে লিফট না থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকালে-বিকাল ক্লাসের তাগিদে এবং অন্তত তিন বেলা খাবারের প্রয়োজনে এই দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে ওঠা আমাদের শারীরিক ও মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সবচেয়ে ঝামেলায় আমাদের পড়তে হয় যখন ১০ম তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হেলথকেয়ার নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা শেষে পুনরায় উপরে তুলে আনা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।
‎
‎
‎শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এটি সমাধানের জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
‎নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমি আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের উঠানামার কষ্ট অনেকখানি কমে যাবে। ১০ তলা পর্যন্ত সিড়ি দিয়ে উঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক তা আমরা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে গভীরভাবে অনুভব করি।
‎
‎
‎লিফট চালুর কাজের অগ্রগতির ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক বলেন, খালেদা জিয়া হলে জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ এটি স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তিন তলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করার পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ আসলেও কাজ শুরু হয়নি। নিয়মিত সার্ভিসিং বজায় রেখে এটি চালুর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।
‎