ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইরান-কিউবা ইস্যুতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা চীনের Logo জবি গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর Logo বসতভিটা বাঁচাতে গ্রামবাসীই আটক করলেন ড্রেজার, পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা Logo জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা Logo ‘ইসরাইলি নির্বাচনের চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনিদের রক্ত’ Logo খসড়া হুবহু পাস হয়ে গেলেও সরকার আওয়ামী লীগের মতো করে সেটি ব্যবহার করবে না: তথ্য উপদেষ্টা Logo ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি আইসিইউ চালু Logo হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া নয়, আনুষ্ঠানিক অবস্থান চায় ইরান: আরাগচি Logo জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০ হামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একের পর এক হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৬০টি এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মোট ১৩টি জেলাজুড়ে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের তৎপরতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত হওয়া মোট ৬০টি ঘটনার মধ্যে ৫২টি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত প্রার্থনা সভা, বাড়ি, গির্জা এবং অন্যান্য খ্রিস্টান সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বাকি আটটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে শারীরিক হামলা, সংঘবদ্ধ আক্রমণ এবং গির্জা বা প্রার্থনালয়ে ভাঙচুরের মতো গুরুতর অপরাধ। এছাড়া এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের পাঁচটি ঘটনা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তিনটি পৃথক বিক্ষোভের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে এই ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে, যেখানে উভয় জেলাই ১৩টি করে হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, হিন্দু সুরক্ষা সমিতি এবং হিন্দু সংহতির মতো উগ্র ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই প্রার্থনা সভায় চড়াও হয়ে আয়োজকদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ভুয়া অভিযোগ আনতেন এবং উপস্থিত লোকজনের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করতে তাদের জোর করে আধার কার্ড প্রদর্শনের দাবি জানাতেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেশ কিছু ঘটনায় আক্রমণকারীরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় একটি খ্রিস্টান সমাবেশে বাধা দেওয়ার সময় হামলাকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর বরদাশত করা হবে না। একইভাবে গত জুলাই মাসে বারাসতে নানামুখী হুমকির মুখে পড়েন খ্রিস্টান মিশনারিরা। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং উপাসনার স্বাধীনতা নিয়ে এই প্রতিবেদন এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

ইরান-কিউবা ইস্যুতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা চীনের

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০ হামলা

প্রকাশিত ০৪:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একের পর এক হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৬০টি এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মোট ১৩টি জেলাজুড়ে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের তৎপরতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত হওয়া মোট ৬০টি ঘটনার মধ্যে ৫২টি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত প্রার্থনা সভা, বাড়ি, গির্জা এবং অন্যান্য খ্রিস্টান সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বাকি আটটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে শারীরিক হামলা, সংঘবদ্ধ আক্রমণ এবং গির্জা বা প্রার্থনালয়ে ভাঙচুরের মতো গুরুতর অপরাধ। এছাড়া এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের পাঁচটি ঘটনা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তিনটি পৃথক বিক্ষোভের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে এই ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে, যেখানে উভয় জেলাই ১৩টি করে হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, হিন্দু সুরক্ষা সমিতি এবং হিন্দু সংহতির মতো উগ্র ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই প্রার্থনা সভায় চড়াও হয়ে আয়োজকদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ভুয়া অভিযোগ আনতেন এবং উপস্থিত লোকজনের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করতে তাদের জোর করে আধার কার্ড প্রদর্শনের দাবি জানাতেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেশ কিছু ঘটনায় আক্রমণকারীরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় একটি খ্রিস্টান সমাবেশে বাধা দেওয়ার সময় হামলাকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর বরদাশত করা হবে না। একইভাবে গত জুলাই মাসে বারাসতে নানামুখী হুমকির মুখে পড়েন খ্রিস্টান মিশনারিরা। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং উপাসনার স্বাধীনতা নিয়ে এই প্রতিবেদন এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।