ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের প্রধান সদর দপ্তর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হতে যাচ্ছে। ইরাকি সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং পুরো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।
ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের কার্যালয়ের পরিচালক আবদুল আমির আল-শাম্মারি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই জোটের সদর দপ্তর বন্ধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডে কোনো ধরনের বিদেশি সামরিক ঘাঁটি টিকে নেই। দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় জনগণের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন এই সামরিক কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস দমনের মূল লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়েছিল। সেই সময় ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও এই জোটে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলো যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে গত বছর ওয়াশিংটন ও বাগদাদের যৌথ সমঝোতায় এই সামরিক মিশন সমাপ্তির দুই ধাপের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
চুক্তির অংশ হিসেবে এর আগে আনবার প্রদেশের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করা হয় এবং তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় স্থানীয় বাহিনী। অন্যদিকে, পরিকল্পনার শেষ ধাপে ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে সিরিয়ায় পরিচালিত সামরিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটছে। তবে বিদেশি জোটের বিদায়ের পরও ভবিষ্যতের সম্পর্কের ধরন নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখতে কাজ করবে।































