ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একক আধিপত্য দেখিয়ে স্বর্ণপদকের সেঞ্চুরি চীনের

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের আসরে বরাবরের মতো এবারও নিজেদের একক আধিপত্য বজায় রেখেছে চীন। প্রতিযোগিতার প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই তারা একশটি স্বর্ণপদকের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পদক তালিকার শীর্ষে থাকা চীনের ঝুলিতে রয়েছে ১০৭টি স্বর্ণসহ মোট ১৭৬টি পদক। এই অসাধারণ সাফল্যের ফলে তাদের কাছাকাছি আসার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কোনো দেশের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের স্বর্ণপদকের সংখ্যা মোটে ৩১ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে সত্তরটিরও বেশি।

মহাদেশীয় এই ক্রীড়াযজ্ঞে চীনের এমন নিরঙ্কুশ প্রাধান্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে হাংঝু আসরেও ২০১টি স্বর্ণপদক জিতে শীর্ষস্থান দখল করেছিল দেশটি, যেখানে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া অনেক পেছনে পড়েছিল। দীর্ঘকাল ধরে এশিয়ান গেমসের পদক তালিকায় টানা আধিপত্য ধরে রাখার ধারাবাহিকতায় এবারও তারা ১২তমবারের মতো মুকুট নিজেদের করার পথে রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে যে, ১৯৮২ সালের পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় চীন নিয়মিতভাবে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে আসছে।

চীনা অ্যাথলেটদের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু ঐতিহ্যবাহী ও ভিত্তিমূলের খেলা। ডাইভিং, জিমন্যাস্টিকস, ভারোত্তোলন, শুটিং, টেবিল টেনিস এবং ব্যাডমিন্টনকে দেশটির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এর সঙ্গে অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো জলক্রীড়াকে তারা ভিত্তিমূলের খেলা হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বর্তমান আসরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় চীনের ১৯ বছর বয়সি সাঁতারু ঝাং ঝানশুও একাই সাতটি স্বর্ণ জিতে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা অন্বেষণ ও দলগত গভীরতাই চীনের প্রধান অস্ত্র। মাত্র ১৩ বছর বয়সি ইউ জিদি তিনটি ব্যক্তিগত সোনা জয়ের পাশাপাশি এশিয়ান রেকর্ড গড়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার জানান দিয়েছেন। শুটিং ও টেবিল টেনিসের মতো ইভেন্টগুলোতেও তাদের সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। কেবল কজন তারকার ওপর নির্ভর না করে বিশাল প্রতিনিধিদল ও সুদূরপ্রসারী কৌশলের মাধ্যমে চীন প্রমাণ করেছে যে, তারা কেবল পদক জয়েই নয়, বরং সামগ্রিক ক্রীড়া শক্তি হিসেবে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় ধরে রেখেছে।

জনপ্রিয়

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প–সির জমকালো বৈঠকে কোনো সমাধান কি এল?

একক আধিপত্য দেখিয়ে স্বর্ণপদকের সেঞ্চুরি চীনের

প্রকাশিত ০৬:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের আসরে বরাবরের মতো এবারও নিজেদের একক আধিপত্য বজায় রেখেছে চীন। প্রতিযোগিতার প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই তারা একশটি স্বর্ণপদকের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পদক তালিকার শীর্ষে থাকা চীনের ঝুলিতে রয়েছে ১০৭টি স্বর্ণসহ মোট ১৭৬টি পদক। এই অসাধারণ সাফল্যের ফলে তাদের কাছাকাছি আসার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কোনো দেশের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের স্বর্ণপদকের সংখ্যা মোটে ৩১ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে সত্তরটিরও বেশি।

মহাদেশীয় এই ক্রীড়াযজ্ঞে চীনের এমন নিরঙ্কুশ প্রাধান্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে হাংঝু আসরেও ২০১টি স্বর্ণপদক জিতে শীর্ষস্থান দখল করেছিল দেশটি, যেখানে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া অনেক পেছনে পড়েছিল। দীর্ঘকাল ধরে এশিয়ান গেমসের পদক তালিকায় টানা আধিপত্য ধরে রাখার ধারাবাহিকতায় এবারও তারা ১২তমবারের মতো মুকুট নিজেদের করার পথে রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে যে, ১৯৮২ সালের পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় চীন নিয়মিতভাবে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে আসছে।

চীনা অ্যাথলেটদের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু ঐতিহ্যবাহী ও ভিত্তিমূলের খেলা। ডাইভিং, জিমন্যাস্টিকস, ভারোত্তোলন, শুটিং, টেবিল টেনিস এবং ব্যাডমিন্টনকে দেশটির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এর সঙ্গে অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো জলক্রীড়াকে তারা ভিত্তিমূলের খেলা হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বর্তমান আসরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় চীনের ১৯ বছর বয়সি সাঁতারু ঝাং ঝানশুও একাই সাতটি স্বর্ণ জিতে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা অন্বেষণ ও দলগত গভীরতাই চীনের প্রধান অস্ত্র। মাত্র ১৩ বছর বয়সি ইউ জিদি তিনটি ব্যক্তিগত সোনা জয়ের পাশাপাশি এশিয়ান রেকর্ড গড়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার জানান দিয়েছেন। শুটিং ও টেবিল টেনিসের মতো ইভেন্টগুলোতেও তাদের সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। কেবল কজন তারকার ওপর নির্ভর না করে বিশাল প্রতিনিধিদল ও সুদূরপ্রসারী কৌশলের মাধ্যমে চীন প্রমাণ করেছে যে, তারা কেবল পদক জয়েই নয়, বরং সামগ্রিক ক্রীড়া শক্তি হিসেবে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় ধরে রেখেছে।