ঢাকা ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য শারীরিক পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি একটি শর্ত। দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে ফরজ গোসলের প্রয়োজন হতে পারে, তবে অনেকেই এর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। নিয়ম অনুযায়ী গোসল না করলে নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হয় না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যান। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ফরজ গোসল সম্পন্ন করার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক।

ফরজ গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য তিনটি কাজ রয়েছে যা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। প্রথমে ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়া সহকারে কুলি করতে হবে, যাতে মুখের ভেতরে কোনো অংশ অপবিত্র না থাকে। এরপর নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ। সবশেষে মাথার চুল থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেহের প্রতিটি অংশে পর্যাপ্ত পানি ভালোভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এই তিনটি কাজের যেকোনো একটি বাদ পড়লে গোসল শুদ্ধ হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ পদ্ধতি অনুসরণ করেই সবচেয়ে উত্তম উপায়ে ফরজ গোসল সম্পন্ন করা যায়। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমে দুই হাত ধুয়ে নেওয়ার পর প্রয়োজনবোধে প্রস্রাব করে বীর্য বা অন্য কোনো অপবিত্রতা পুরোপুরি পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর শরীরের গোপন অঙ্গ ধুয়ে নিয়ে নামাজের অজুর মতো একটি পূর্ণাঙ্গ অজু সম্পন্ন করতে হয়। তবে গোসলের স্থানে যদি পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে পা ধোয়ার কাজটি সবার শেষে করার নিয়ম রয়েছে।

অজু শেষ করার পর মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে এবং শরীরের ডান অংশে ও পরে বাঁ অংশে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধৌত করতে হবে। গোসলের সময় নাভির ভেতর, কানের ছিদ্র, বগল এবং আঙুলের ফাঁকে হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে দাড়ি, গোঁফ ও চুলের গোড়ায় এবং নারীদের ক্ষেত্রে চুল খোলা থাকলে তা ভিজিয়ে নেওয়া ফরজ। এছাড়া শরীরে ব্যবহৃত আংটি, ঘড়ি বা নেইল পলিশ থাকলে তা সরিয়ে বা সরিয়ে পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। শরীরের একচুল পরিমাণ জায়গাও যদি শুকনো থেকে যায়, তবে গোসল অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

জনপ্রিয়

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প–সির জমকালো বৈঠকে কোনো সমাধান কি এল?

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

প্রকাশিত ০৭:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য শারীরিক পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি একটি শর্ত। দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে ফরজ গোসলের প্রয়োজন হতে পারে, তবে অনেকেই এর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। নিয়ম অনুযায়ী গোসল না করলে নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হয় না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যান। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ফরজ গোসল সম্পন্ন করার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক।

ফরজ গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য তিনটি কাজ রয়েছে যা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। প্রথমে ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়া সহকারে কুলি করতে হবে, যাতে মুখের ভেতরে কোনো অংশ অপবিত্র না থাকে। এরপর নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ। সবশেষে মাথার চুল থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেহের প্রতিটি অংশে পর্যাপ্ত পানি ভালোভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এই তিনটি কাজের যেকোনো একটি বাদ পড়লে গোসল শুদ্ধ হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ পদ্ধতি অনুসরণ করেই সবচেয়ে উত্তম উপায়ে ফরজ গোসল সম্পন্ন করা যায়। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমে দুই হাত ধুয়ে নেওয়ার পর প্রয়োজনবোধে প্রস্রাব করে বীর্য বা অন্য কোনো অপবিত্রতা পুরোপুরি পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর শরীরের গোপন অঙ্গ ধুয়ে নিয়ে নামাজের অজুর মতো একটি পূর্ণাঙ্গ অজু সম্পন্ন করতে হয়। তবে গোসলের স্থানে যদি পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে পা ধোয়ার কাজটি সবার শেষে করার নিয়ম রয়েছে।

অজু শেষ করার পর মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে এবং শরীরের ডান অংশে ও পরে বাঁ অংশে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধৌত করতে হবে। গোসলের সময় নাভির ভেতর, কানের ছিদ্র, বগল এবং আঙুলের ফাঁকে হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে দাড়ি, গোঁফ ও চুলের গোড়ায় এবং নারীদের ক্ষেত্রে চুল খোলা থাকলে তা ভিজিয়ে নেওয়া ফরজ। এছাড়া শরীরে ব্যবহৃত আংটি, ঘড়ি বা নেইল পলিশ থাকলে তা সরিয়ে বা সরিয়ে পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। শরীরের একচুল পরিমাণ জায়গাও যদি শুকনো থেকে যায়, তবে গোসল অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।