ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা আদালতে, জাতিসংঘের মঞ্চে নয়’Ñনেতানিয়াহুকে এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের স্থান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে হতে পারে না। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ২৯তম আন্তর্জাতিক বিজনেস ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, রক্তপাতের সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির পরিবেশিত তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিন সংকটের বিষয়ে দেশটির অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এরদোয়ান। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, যারা প্রকাশ্যে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের যদি দ্রুত উপযুক্ত বিচার ও ইতিহাসের মুখোমুখি করা না হয়, তবে এই ধরনের নৃশংসতা আবারও ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়। ফিলিস্তিনি জনগণ কখনই একা নয় এবং গাজাবাসীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে তুরস্ক সব সময় তাদের পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের সান্ত্বনা দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা কোনো অবস্থাতেই একা বা বিশ্ববাসীর দ্বারা পরিত্যক্ত নন। গাজায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তুরস্ক তাদের কোনোভাবেই পরিত্যাগ করবে না। বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি আঙ্কারার এই নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রজব তাইয়েব এরদোয়ান আরও বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র অঞ্চল বর্তমানে এক ভয়ানক সংকটের পূর্ণাঙ্গ ঝড়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। তুরস্ককে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংঘাত বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

জনপ্রিয়

জার্মানিতে তথ্যপ্রযুক্তিতে চাকরি: বিদেশি প্রার্থীদের যে যে শর্ত মানতে হবে

‘যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা আদালতে, জাতিসংঘের মঞ্চে নয়’Ñনেতানিয়াহুকে এরদোয়ান

প্রকাশিত ০৭:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের স্থান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে হতে পারে না। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ২৯তম আন্তর্জাতিক বিজনেস ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, রক্তপাতের সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির পরিবেশিত তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিন সংকটের বিষয়ে দেশটির অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এরদোয়ান। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, যারা প্রকাশ্যে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের যদি দ্রুত উপযুক্ত বিচার ও ইতিহাসের মুখোমুখি করা না হয়, তবে এই ধরনের নৃশংসতা আবারও ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়। ফিলিস্তিনি জনগণ কখনই একা নয় এবং গাজাবাসীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে তুরস্ক সব সময় তাদের পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের সান্ত্বনা দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা কোনো অবস্থাতেই একা বা বিশ্ববাসীর দ্বারা পরিত্যক্ত নন। গাজায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তুরস্ক তাদের কোনোভাবেই পরিত্যাগ করবে না। বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি আঙ্কারার এই নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রজব তাইয়েব এরদোয়ান আরও বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র অঞ্চল বর্তমানে এক ভয়ানক সংকটের পূর্ণাঙ্গ ঝড়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। তুরস্ককে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংঘাত বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।