ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আন্তর্জাতিক কফি দিবস: আপনিও কি ‘কফি হাউস’ গানের রমা, সুজাতা, মঈদুল, নিখিলেশ আর অমলের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজছেন? Logo বাবার মুখে পাউরুটি তুলে দেওয়া সেই শিশুকে স্কুলে ফেরালেন ইউএনও Logo নিকনের প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া ছবি ও ভিডিওতে এআই ব্যবহারের অভিযোগ Logo আয়ারল্যান্ডে চালু হলো বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম Logo মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতায়িত ও দগ্ধ পাঁচ ছাত্রীর ৩ জনই মারা গেল Logo ‘যে-ই আমার কথা শুনছেন, আমাদের সাহায্য দরকার’: হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট নামার পর যেভাবে রক্ষা পেল ফ্লাইট ১০৭৩ Logo সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ লেনদেন, গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ল টাকা নেওয়ার দৃশ্য Logo ১০ মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে, গিয়ে শুনলেন তালাক Logo রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট, গ্রেপ্তার ১ Logo খালে আটকা পড়া এক হাঙর নিয়ে শহরজুড়ে মাতামাতি, পর্যটকের ভিড়

‘যে-ই আমার কথা শুনছেন, আমাদের সাহায্য দরকার’: হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট নামার পর যেভাবে রক্ষা পেল ফ্লাইট ১০৭৩

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ মাঝ আকাশে চরম বিপদের মুখে পড়ে। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের ওই উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই হঠাৎ করে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নামার পর উড়োজাহাজটি থেকে একাধিক জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। পরে সৌদির তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, উড়োজাহাজের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি এবং একজনের ওপর আরেকজনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ভেতরের প্রকাশিত ভিডিও ও যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ককপিটে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থার দৃশ্য দেখা যায় এবং পুরো উড়োজাহাজে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই ফ্লাইটে প্রায় দেড় শতাধিক ইসরায়েলি যাত্রী ছিলেন, যারা সৌদির আকাশে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন। সৌদিতে অবতরণের পর আহত যাত্রীদের কয়েকজনের শরীরে রক্তের দাগ দেখা যায় এবং তারা পুরো ঘটনার বিবরণ দেন।

ভয়ংকর ওই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে থাকা অন্য পাইলট ও সাহসী যাত্রীদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। যাত্রীদের মধ্যে থাকা দুজন অতিরিক্ত ইউরোপীয় পাইলট দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন এবং এটিকে স্থিতিশীল করেন। এক যাত্রী গণমাধ্যমকে জানান, ওই দুই অতিরিক্ত পাইলট উড়োজাহাজটিকে পুনরায় ওপরের দিকে তোলেন এবং নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান। এছাড়া সাধারণ যাত্রীরাও ককপিটের ভেতরে গিয়ে হামলাকারীকে প্রতিহত করতে সাহায্য করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, উড়োজাহাজটির এক পাইলট পরিকল্পিতভাবে সেটি বিধ্বস্ত করে ইসরায়েলি যাত্রীদের হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টির পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চালাচ্ছে এবং এখনই কোনো চূড়ান্ত অনুমানমূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে। বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ককপিটের দরজা খোলার প্রক্রিয়া এবং ক্রুদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন। সৌদিতে অবতরণের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক কফি দিবস: আপনিও কি ‘কফি হাউস’ গানের রমা, সুজাতা, মঈদুল, নিখিলেশ আর অমলের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজছেন?

‘যে-ই আমার কথা শুনছেন, আমাদের সাহায্য দরকার’: হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট নামার পর যেভাবে রক্ষা পেল ফ্লাইট ১০৭৩

প্রকাশিত ১০:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ মাঝ আকাশে চরম বিপদের মুখে পড়ে। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের ওই উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই হঠাৎ করে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নামার পর উড়োজাহাজটি থেকে একাধিক জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। পরে সৌদির তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, উড়োজাহাজের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি এবং একজনের ওপর আরেকজনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ভেতরের প্রকাশিত ভিডিও ও যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ককপিটে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থার দৃশ্য দেখা যায় এবং পুরো উড়োজাহাজে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই ফ্লাইটে প্রায় দেড় শতাধিক ইসরায়েলি যাত্রী ছিলেন, যারা সৌদির আকাশে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন। সৌদিতে অবতরণের পর আহত যাত্রীদের কয়েকজনের শরীরে রক্তের দাগ দেখা যায় এবং তারা পুরো ঘটনার বিবরণ দেন।

ভয়ংকর ওই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে থাকা অন্য পাইলট ও সাহসী যাত্রীদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। যাত্রীদের মধ্যে থাকা দুজন অতিরিক্ত ইউরোপীয় পাইলট দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন এবং এটিকে স্থিতিশীল করেন। এক যাত্রী গণমাধ্যমকে জানান, ওই দুই অতিরিক্ত পাইলট উড়োজাহাজটিকে পুনরায় ওপরের দিকে তোলেন এবং নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান। এছাড়া সাধারণ যাত্রীরাও ককপিটের ভেতরে গিয়ে হামলাকারীকে প্রতিহত করতে সাহায্য করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, উড়োজাহাজটির এক পাইলট পরিকল্পিতভাবে সেটি বিধ্বস্ত করে ইসরায়েলি যাত্রীদের হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টির পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চালাচ্ছে এবং এখনই কোনো চূড়ান্ত অনুমানমূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে। বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ককপিটের দরজা খোলার প্রক্রিয়া এবং ক্রুদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন। সৌদিতে অবতরণের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।