নাটোর সদর উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে প্রকাশ্যে অর্থ আদায়ের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। জমিজমাসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য অফিসে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে উৎকোচ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ওই কার্যালয়ের দুজন নির্দিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারী, যারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে হয়রানি করে আসছিলেন বলে জানা যায়।
সংগৃহীত তথ্য ও দৃশ্যে দেখা গেছে, অফিসকক্ষের ভেতরেই অত্যন্ত সুকৌশলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে। জমির পর্চা কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রের ফাইল ছাড় করার কথা বলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সেবাগ্রহীতারা বারবার হয়রানির শিকার হয়ে বাধ্য হয়েই এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সরকারি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ফাঁদ পেতে ক্যামেরাবন্দী করার পর স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, সরকারি দপ্তরে দালাল চক্র এবং অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হতে থাকবে।
এদিকে, এই ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পর্যায়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সরকারি অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

































