ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আয়ারল্যান্ডে চালু হলো বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম Logo মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতায়িত ও দগ্ধ পাঁচ ছাত্রীর ৩ জনই মারা গেল Logo ‘যে-ই আমার কথা শুনছেন, আমাদের সাহায্য দরকার’: হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট নামার পর যেভাবে রক্ষা পেল ফ্লাইট ১০৭৩ Logo সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ লেনদেন, গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ল টাকা নেওয়ার দৃশ্য Logo ১০ মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে, গিয়ে শুনলেন তালাক Logo রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট, গ্রেপ্তার ১ Logo খালে আটকা পড়া এক হাঙর নিয়ে শহরজুড়ে মাতামাতি, পর্যটকের ভিড় Logo রাড্ডা হামলায় নাম, পদত্যাগ করলেন এমপি ফেরদৌসী Logo বাসের ভেতরে সন্তান প্রসব, উপহার গেল নবজাতকের বাড়িতে Logo কক্সবাজারে হোটেলের শৌচাগার থেকে নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতায়িত ও দগ্ধ পাঁচ ছাত্রীর ৩ জনই মারা গেল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দগ্ধ আরও এক ছাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লামিয়া নামের পনেরো বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী মারা যায়। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়া ও জিদনী নামের আরও দুই শিশু মারা গিয়েছিল। এই নিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনেরই মৃত্যু হলো। বর্তমানে বাকি দুজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তাদের সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় অবস্থিত মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার ছাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছুটির দিনে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মতো সেদিনও ছাদে খেলাধুলা করছিল। ওই ভবনটির পাশ দিয়েই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তার এবং একটি গ্যাস রাইজার বা ট্রান্সফরমার রয়েছে। খেলাধুলার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দগ্ধ শিশুদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে হঠাৎ করেই ছাদ থেকে শিশুদের চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। এরপর তারা বাইরে এসে দেখেন সেখানে আগুন জ্বলছে এবং শিশুরা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অটোরিকশায় করে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হতাহত শিশুরা মূলত ফ্ল্যাশ বার্নের শিকার হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ, জিদনীর ৮২ শতাংশ এবং লামিয়ার শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসিয়া ও সুমাইয়ার অবস্থae তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো রয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ধারণা, ছাদে খেলাধুলার সময় শিশুদের হাতে থাকা কোনো বস্তু বা আখের ছোবড়া ওপরের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। এর ফলে সেখান থেকে তীব্র স্পার্ক তৈরি হয়ে নিচে থাকা গ্যাস রাইজারে আগুন ধরে যায় এবং শিশুরা গুরুতর দগ্ধ হয়। জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই ধরনের বৈদ্যুতিক লাইন ও গ্যাস সংযোগ থাকার কারণে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

জনপ্রিয়

আয়ারল্যান্ডে চালু হলো বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম

মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতায়িত ও দগ্ধ পাঁচ ছাত্রীর ৩ জনই মারা গেল

প্রকাশিত ১০:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দগ্ধ আরও এক ছাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লামিয়া নামের পনেরো বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী মারা যায়। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়া ও জিদনী নামের আরও দুই শিশু মারা গিয়েছিল। এই নিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনেরই মৃত্যু হলো। বর্তমানে বাকি দুজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তাদের সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় অবস্থিত মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার ছাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছুটির দিনে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মতো সেদিনও ছাদে খেলাধুলা করছিল। ওই ভবনটির পাশ দিয়েই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তার এবং একটি গ্যাস রাইজার বা ট্রান্সফরমার রয়েছে। খেলাধুলার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দগ্ধ শিশুদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে হঠাৎ করেই ছাদ থেকে শিশুদের চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। এরপর তারা বাইরে এসে দেখেন সেখানে আগুন জ্বলছে এবং শিশুরা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অটোরিকশায় করে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হতাহত শিশুরা মূলত ফ্ল্যাশ বার্নের শিকার হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ, জিদনীর ৮২ শতাংশ এবং লামিয়ার শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসিয়া ও সুমাইয়ার অবস্থae তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো রয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ধারণা, ছাদে খেলাধুলার সময় শিশুদের হাতে থাকা কোনো বস্তু বা আখের ছোবড়া ওপরের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। এর ফলে সেখান থেকে তীব্র স্পার্ক তৈরি হয়ে নিচে থাকা গ্যাস রাইজারে আগুন ধরে যায় এবং শিশুরা গুরুতর দগ্ধ হয়। জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই ধরনের বৈদ্যুতিক লাইন ও গ্যাস সংযোগ থাকার কারণে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।