শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর চার বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহত শিশুটির নাম সোয়াইফ হোসেন এবং সে স্থানীয় পশ্চিম আদাশন গ্রামের সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে এক মর্মান্তিক পরিণতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরেও শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় মাইকিং ও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি দ্রুত থানাকে অবহিত করা হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে নামে। পরবর্তীতে দীর্ঘ তল্লাশির একপর্যায়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতা ও ঝামেলার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী আবু আলম শিকদারের পরিবারের সঙ্গে সেলিম সরদারের পরিবারের বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। সেই ক্ষোভ ও বিরোধের জের ধরেই অবুঝ শিশুটিকে কৌশله অপহরণের পর হত্যা করে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক সন্দেহে রাসেল শিকদার নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম নিশ্চিত করেছেন যে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনা হবে।




































