ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুন: সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে, উদ্ধার ৬৯ জন Logo কমছে মানুষের চিন্তার ক্ষমতা, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে নতুন সতর্কতা Logo সকালে খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু, দুপুরে মিলল বস্তাবন্দী গলাকাটা লাশ Logo কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা, উত্তেজনা Logo ময়মনসিংহে ৭ জন নিহতের ঘটনায় বাসচালককে আসামি করে মামলা Logo ১৩.৮ বিলিয়ন বছর বয়সী মহাবিশ্ব কীভাবে ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষজুড়ে বিস্তৃত Logo গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট Logo ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেনকে ‘কুড়াল দিয়ে আঘাত করেছিলেন কো-পাইলট’ Logo পাঁচ দিনব্যাপী বিসিকি শরৎ মেলা শুরু ৭ অক্টোবর Logo সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল পারমাণবিক জ্বালানির চালান

ময়মনসিংহে ৭ জন নিহতের ঘটনায় বাসচালককে আসামি করে মামলা

ময়মনসিংহ শহরের বাইপাস মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহতের ঘটনায় বাসচালককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘাতক বাসটি এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। তবে ঘটনার পর থেকেই বাসটির চালক ও তার সহকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং পলাতক বাসচালককে আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজীব পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ওই বড় দুর্ঘটনা ঘটে।

এই দুর্ঘটনায় নিহত সবাই জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্যও ছিলেন। নিহতরা হলেন রাশিদা বেগম, তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন লেবু, নাতনি মর্জিনা আক্তার ও প্রপৌত্র মিনাল। এছাড়া অটোরিকশাচালক সুজন আলী এবং আকরাম আলী ও তাঁর স্ত্রী মমতা বেগমও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া চালকদের বিচারের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি জামালপুর শহরের ফৌজদারি এলাকায় ওই পরিবহনের বাসের প্রতীকী লাশের কফিন নিয়ে গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী এই পরিবহন সংস্থার বাসগুলো সবসময় অতিরিক্ত গতিতে ও নিয়ম ভেঙে চলাচল করে। নিহতদের পরিবারে শোকের মাতমের পাশাপাশি ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয়

গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুন: সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে, উদ্ধার ৬৯ জন

ময়মনসিংহে ৭ জন নিহতের ঘটনায় বাসচালককে আসামি করে মামলা

প্রকাশিত ০৬:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহ শহরের বাইপাস মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহতের ঘটনায় বাসচালককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘাতক বাসটি এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। তবে ঘটনার পর থেকেই বাসটির চালক ও তার সহকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং পলাতক বাসচালককে আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজীব পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ওই বড় দুর্ঘটনা ঘটে।

এই দুর্ঘটনায় নিহত সবাই জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্যও ছিলেন। নিহতরা হলেন রাশিদা বেগম, তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন লেবু, নাতনি মর্জিনা আক্তার ও প্রপৌত্র মিনাল। এছাড়া অটোরিকশাচালক সুজন আলী এবং আকরাম আলী ও তাঁর স্ত্রী মমতা বেগমও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া চালকদের বিচারের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি জামালপুর শহরের ফৌজদারি এলাকায় ওই পরিবহনের বাসের প্রতীকী লাশের কফিন নিয়ে গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী এই পরিবহন সংস্থার বাসগুলো সবসময় অতিরিক্ত গতিতে ও নিয়ম ভেঙে চলাচল করে। নিহতদের পরিবারে শোকের মাতমের পাশাপাশি ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।