ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় রাবি ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার Logo প্রেমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেকের বাথরুমে প্রেমিকার আত্মহত্যা Logo হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, বাঁচলেন প্রাণে Logo ‎বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং জোরদারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo কুবির র‍্যাঙ্কিং বিষয়ক কর্মশালায় রিসোর্স পারসন নোবিপ্রবির ড. ফাহাদ হুসাইন Logo শিক্ষক দিবসের ব্যানারে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার Logo ‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের নিন্দা Logo মাদকে উদ্বেগ বাকৃবিতে, সাত দিনে আটক ৮ Logo আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই Logo ইউজিসির গবেষণা নীতিমালা প্রত্যাখ্যান, পাবিপ্রবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন ও ৪ দফা দাবি ‎

ভাড়াটে খুনি দিয়ে চকরিয়ার ছাত্রদল নেতা জিশানকে হত্যা, বলছে পুলিশ

কক্সবাজারে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম ওরফে জিসান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও টাকার বিনিময়ে এই কিলিং মিশনে অংশ নেন ওই ব্যক্তিরা।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু ড্রাইভার এবং জিসাত মিয়া ওরফে শওকতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেনকে আটক করার পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরবর্তীতে জিসাত মিয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নোয়াহ মাইক্রোবাস ও একটি আইফোন জব্দ করা হয়। পরে তিনিও আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ছাত্রদল নেতা জিসানের সঙ্গে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রেজিয়া সুলতানার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধের জের ধরে বিদেশে অবস্থানরত রেজিয়ার ভাই মিজানুর রহমানের সঙ্গে জিসানের ফোনে কথা-কাটাকাটি ও চরম বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর থেকেই বিদেশে বসে মিজানুর ও অন্যান্য আসামিরা জিসানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় আনোয়ার হোসেনকে, যিনি পরবর্তীতে আরও পাঁচ-ছয়জন ভাড়াটে খুনিকে এই মিশনে যুক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়ন এলাকা থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর খুটাখালী এলাকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত নেতার বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং অন্য সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে দেশজুড়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় রাবি ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার

ভাড়াটে খুনি দিয়ে চকরিয়ার ছাত্রদল নেতা জিশানকে হত্যা, বলছে পুলিশ

প্রকাশিত ০৮:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম ওরফে জিসান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও টাকার বিনিময়ে এই কিলিং মিশনে অংশ নেন ওই ব্যক্তিরা।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু ড্রাইভার এবং জিসাত মিয়া ওরফে শওকতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেনকে আটক করার পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরবর্তীতে জিসাত মিয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নোয়াহ মাইক্রোবাস ও একটি আইফোন জব্দ করা হয়। পরে তিনিও আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ছাত্রদল নেতা জিসানের সঙ্গে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রেজিয়া সুলতানার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধের জের ধরে বিদেশে অবস্থানরত রেজিয়ার ভাই মিজানুর রহমানের সঙ্গে জিসানের ফোনে কথা-কাটাকাটি ও চরম বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর থেকেই বিদেশে বসে মিজানুর ও অন্যান্য আসামিরা জিসানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় আনোয়ার হোসেনকে, যিনি পরবর্তীতে আরও পাঁচ-ছয়জন ভাড়াটে খুনিকে এই মিশনে যুক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়ন এলাকা থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর খুটাখালী এলাকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত নেতার বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং অন্য সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে দেশজুড়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।