ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

এআই নিয়ন্ত্রণে ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ চান মাইক্রোসফট প্রধান নাদেলা

প্রযুক্তি ডেস্ক: উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সিস্টেমে মানুষের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনে তা তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দেওয়ার জন্য একটি জরুরি ব্রেক বা ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান ও সিইও সাত্যিয়া নাদেলা। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধুনিক এআই প্রযুক্তির অতি দ্রুত বিকাশ এবং এর ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের মধ্যেই এই মন্তব্য করেন তিনি। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও গবেষকদের বিভিন্ন সতর্কবার্তার মুখে নাদেলার এই নতুন পর্যবেক্ষণ বেশ গুরুত্ব বহন করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মাইক্রোসফট প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ধরনের এআই মডেলকে শক্ত সামর্থ্য, সুনির্দিষ্ট সিস্টেম ডিজাইন, মানব নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভরযোগ্য পরিচালন পদ্ধতির আওতায় রাখা জরুরি। যেখানে প্রচলিত নিরাপত্তা মানদণ্ড অপর্যাপ্ত বলে প্রমাণিত হচ্ছে, সেখানে নতুন শিল্প মানদণ্ড তৈরি করার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। শীর্ষপর্যায়ের ওপেন বা ক্লোজড-ওয়েট উভয় ধরনের এআই মডেলকে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির উৎস হিসেবে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ সিস্টেম গড়ে তোলার একমাত্র কার্যকর উপায় বলে মনে করেন তিনি।

প্রযুক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত গতি ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে এর আগেও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বরা বারবার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক চাকরি ছাড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মানবজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এমনকি আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানবজাতি ধ্বংস বা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশেরও বেশি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্য এক কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এআই প্রযুক্তির কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকিকে সম্পূর্ণ অমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং এর বদলে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে এগিয়ে রাখার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। এআই শিল্পের যথাযথ প্রসার এবং এর অপব্যবহার রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ‘এআই ফোর্স’ নামে একটি নতুন উদ্যোগও চালু করেছে। এই পরিস্থিতিতে নাদেলা তার পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, এআই সিস্টেমগুলোকে অবশ্যই পর্যবেক্ষণযোগ্যতার বিভিন্ন নীতির ভিত্তিতে তৈরি করতে হবে যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।

নাদেলার মতে, এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মডেলের বহুমুখীতা, ডিজিটাল রেকর্ড রাখা, নিরবচ্ছিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা, স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা এবং অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, সবচেয়ে বিশ্বস্ত সিস্টেম সেটিই হবে, যা মানুষকে ওই মডেলের ওপর সর্বনিম্ন নির্ভর করার বা সবচেয়ে কম বিশ্বাস করার সুযোগ করে দেবে। মূলত বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এআই খাতের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয়

অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে যা জানাল ডিবি

এআই নিয়ন্ত্রণে ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ চান মাইক্রোসফট প্রধান নাদেলা

প্রকাশিত ০২:২২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সিস্টেমে মানুষের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনে তা তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দেওয়ার জন্য একটি জরুরি ব্রেক বা ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান ও সিইও সাত্যিয়া নাদেলা। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধুনিক এআই প্রযুক্তির অতি দ্রুত বিকাশ এবং এর ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের মধ্যেই এই মন্তব্য করেন তিনি। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও গবেষকদের বিভিন্ন সতর্কবার্তার মুখে নাদেলার এই নতুন পর্যবেক্ষণ বেশ গুরুত্ব বহন করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মাইক্রোসফট প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ধরনের এআই মডেলকে শক্ত সামর্থ্য, সুনির্দিষ্ট সিস্টেম ডিজাইন, মানব নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভরযোগ্য পরিচালন পদ্ধতির আওতায় রাখা জরুরি। যেখানে প্রচলিত নিরাপত্তা মানদণ্ড অপর্যাপ্ত বলে প্রমাণিত হচ্ছে, সেখানে নতুন শিল্প মানদণ্ড তৈরি করার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। শীর্ষপর্যায়ের ওপেন বা ক্লোজড-ওয়েট উভয় ধরনের এআই মডেলকে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির উৎস হিসেবে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ সিস্টেম গড়ে তোলার একমাত্র কার্যকর উপায় বলে মনে করেন তিনি।

প্রযুক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত গতি ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে এর আগেও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বরা বারবার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক চাকরি ছাড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মানবজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এমনকি আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানবজাতি ধ্বংস বা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশেরও বেশি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্য এক কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এআই প্রযুক্তির কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকিকে সম্পূর্ণ অমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং এর বদলে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে এগিয়ে রাখার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। এআই শিল্পের যথাযথ প্রসার এবং এর অপব্যবহার রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ‘এআই ফোর্স’ নামে একটি নতুন উদ্যোগও চালু করেছে। এই পরিস্থিতিতে নাদেলা তার পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, এআই সিস্টেমগুলোকে অবশ্যই পর্যবেক্ষণযোগ্যতার বিভিন্ন নীতির ভিত্তিতে তৈরি করতে হবে যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।

নাদেলার মতে, এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মডেলের বহুমুখীতা, ডিজিটাল রেকর্ড রাখা, নিরবচ্ছিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা, স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা এবং অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, সবচেয়ে বিশ্বস্ত সিস্টেম সেটিই হবে, যা মানুষকে ওই মডেলের ওপর সর্বনিম্ন নির্ভর করার বা সবচেয়ে কম বিশ্বাস করার সুযোগ করে দেবে। মূলত বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এআই খাতের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।