ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

টিআইকে নীতি: ৯৯.৯৯% দিয়ে খবর নয়

গণমাধ্যম ডেস্ক: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত দুই অক্টোবর ৫৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। উন্নত দেশে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার এই হঠাৎ প্রয়াণে গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মজীবনে তিনি সবসময় পরিমিত জীবনযাপন ও সুশৃঙ্খল অভ্যাসের চর্চা করলেও তার এই অকাল মৃত্যুতে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। নির্ধারিত গড় আয়ুর তুলনায় তার এই চলে যাওয়াকে সময়ের কাছে সাংবাদিকতার বড় এক প্রাপ্তি বকে যাওয়ার মতো ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইবিএম ছেড়ে সাংবাদিকতায় সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হওয়ার সময় তৌফিক ইমরোজ খালিদী লেখকের বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। দেশের সাংবাদিকতায় অনেক নতুন ধারা ও প্রথম অর্জন যুক্ত করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে নানা সময়ে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। নীতি ঠিক রাখতে গিয়ে গণমাধ্যমের এই আর্থিক লোকসান এবং বেতন বকেয়া থাকার অভিজ্ঞতা বিডিনিউজের কর্মীদের জন্য ছিল বড় এক চ্যালেঞ্জ। তবে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই তাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মানের সঙ্গে আপস করেনি।

আদর্শগতভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে সবসময় অনড় অবস্থানে ছিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিটি প্রতিবেদন ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করেছে এবং নাগরিক সাংবাদিকদের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফেইসবুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চটকদার খবরের পেছনে না ছুটে শতভাগ নির্ভুল তথ্য প্রকাশের নীতিতে অটল ছিলেন তিনি। খবর দ্রুত প্রকাশের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকলেও ১০০ ভাগ নিখুঁত তথ্য প্রকাশের এই মানসিকতা সংবাদকর্মীদের মাঝে দৃঢ়ভাবে গেঁথে দিয়েছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে থেকেও জীবনযাপনে পরিপাটি ও স্বতন্ত্র স্টাইলের অধিকারী ছিলেন এই সংবাদ ব্যক্তিত্ব। তার পোশাকের নকশা ও রং নির্বাচনে এক ধরনের স্বকীয়তা ছিল, যা তার নেতৃত্বসুলভ ব্যক্তিত্বকে আরও ফুটিয়ে তুলত। বর্তমানে তার প্রয়াণে বিডিনিউজের পাতা শোকবইয়ে পরিণত হলেও নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। তার এই অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রকাশিত সব শোকবার্তা ও স্মৃতিচারণ এক মলাটে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন সহকর্মীরা, যা আগামী প্রজন্মের জন্য সাংবাদিকতা চর্চার পাঠ্য হতে পারে।

জনপ্রিয়

মদ, নাচানাচি ও রাষ্ট্রের নৈতিক পাহারাদারি

টিআইকে নীতি: ৯৯.৯৯% দিয়ে খবর নয়

প্রকাশিত ০৩:৩৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গণমাধ্যম ডেস্ক: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত দুই অক্টোবর ৫৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। উন্নত দেশে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার এই হঠাৎ প্রয়াণে গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মজীবনে তিনি সবসময় পরিমিত জীবনযাপন ও সুশৃঙ্খল অভ্যাসের চর্চা করলেও তার এই অকাল মৃত্যুতে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। নির্ধারিত গড় আয়ুর তুলনায় তার এই চলে যাওয়াকে সময়ের কাছে সাংবাদিকতার বড় এক প্রাপ্তি বকে যাওয়ার মতো ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইবিএম ছেড়ে সাংবাদিকতায় সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হওয়ার সময় তৌফিক ইমরোজ খালিদী লেখকের বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। দেশের সাংবাদিকতায় অনেক নতুন ধারা ও প্রথম অর্জন যুক্ত করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে নানা সময়ে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। নীতি ঠিক রাখতে গিয়ে গণমাধ্যমের এই আর্থিক লোকসান এবং বেতন বকেয়া থাকার অভিজ্ঞতা বিডিনিউজের কর্মীদের জন্য ছিল বড় এক চ্যালেঞ্জ। তবে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই তাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মানের সঙ্গে আপস করেনি।

আদর্শগতভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে সবসময় অনড় অবস্থানে ছিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিটি প্রতিবেদন ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করেছে এবং নাগরিক সাংবাদিকদের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফেইসবুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চটকদার খবরের পেছনে না ছুটে শতভাগ নির্ভুল তথ্য প্রকাশের নীতিতে অটল ছিলেন তিনি। খবর দ্রুত প্রকাশের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকলেও ১০০ ভাগ নিখুঁত তথ্য প্রকাশের এই মানসিকতা সংবাদকর্মীদের মাঝে দৃঢ়ভাবে গেঁথে দিয়েছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে থেকেও জীবনযাপনে পরিপাটি ও স্বতন্ত্র স্টাইলের অধিকারী ছিলেন এই সংবাদ ব্যক্তিত্ব। তার পোশাকের নকশা ও রং নির্বাচনে এক ধরনের স্বকীয়তা ছিল, যা তার নেতৃত্বসুলভ ব্যক্তিত্বকে আরও ফুটিয়ে তুলত। বর্তমানে তার প্রয়াণে বিডিনিউজের পাতা শোকবইয়ে পরিণত হলেও নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। তার এই অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রকাশিত সব শোকবার্তা ও স্মৃতিচারণ এক মলাটে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন সহকর্মীরা, যা আগামী প্রজন্মের জন্য সাংবাদিকতা চর্চার পাঠ্য হতে পারে।