রাজনীতি ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুলিশের বাধা এড়িয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে একটি বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ, ভোট চুরি প্রতিরোধ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার মূল দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক। পুলিশের সঙ্গে কিছু সময় ধস্তাধ্বস্তির পর বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে পৌঁছান। তবে জনস্রোতের কারণে রাহুল গান্ধী নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে না পারায় তার আগেই আইনজীবীর মাধ্যমে শীর্ষ আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ১০টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে এই পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় নথি আদালতে জমা দেওয়া, এই প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা যাচাই করা এবং কোনো কর্মকর্তা সংবিধান বহির্ভূত কাজ করে থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে ফরম ৬-এ কোনো পরিবর্তন না করা, বুথভিত্তিক বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ এবং যথাযথ নোটিস ও শুনানি ছাড়া কারও নাম না বাদ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে ভোটার তালিকা ও ইভিএম প্রোটোকল যাচাইয়ের দাবিও তোলা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এসব অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত যেন দেশের সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়।
এর আগে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধান বিচারপতি আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি নেতাদের সময় দিতে পারবেন না এবং বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত রাজনীতি করার জায়গা নয় বলে বার্তা দেওয়ার পরও বিরোধী নেতারা নিজেদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পদযাত্রা করে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে উপস্থিত হন।





































