ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোয় গুরুত্ব Logo চকবাজার মার্কেটের আগুন ব্যাগের গুদাম থেকে: ডিএসসিসি প্রশাসক Logo নারীদের উন্নয়নে যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ববি হাজ্জাজের Logo সচিব হলেন ৩ নারী হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত Logo আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত ধাপে ধাপে পূরণ করতে চায় সরকার Logo রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল: ‘বিকল্প বিমানবন্দরে’ খরচের ধাক্কায় প্রবাসীরা Logo কবি নজরুল কলেজে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ‘শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ’ অনুষ্ঠিত Logo জাবিতে ‘ধ্বনি’র প্রতিষ্ঠার ৩ দশক উপলক্ষে ‘ত্রিংশ’ অনুষ্ঠিত Logo পাবিপ্রবির লেকে ১৪টি পাতি সরালি হাঁস অবমুক্ত করল পাখিপ্রেমীরা Logo নভেম্বরে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর তোড়জোড়

আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত ধাপে ধাপে পূরণ করতে চায় সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে নির্ধারিত সংস্কারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে চায় বর্তমান সরকার। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। সভায় যোগ দেওয়া অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জনগণের দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

আইএমএফের ঋণের শর্তগুলোর বড় একটি অংশে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের পাশাপাশি জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কমিয়ে বাজারমূল্যে সরবরাহ করার চাপ থাকে। এছাড়া কর ছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কর আরোপেরও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এর আগে আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি করা হয়।

নতুন সরকারের আমলে আগের ঋণ চুক্তি থেকে বেরিয়ে নতুন ঋণ গ্রহণের জন্য আইএমএফের কাছে প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় তিন বছরে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা চলছে। গত জুন মাসে আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের নতুন ঋণ পাওয়ার আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। ঋণের শর্ত চূড়ান্ত করতে অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা মূল্যায়ন করতে একটি মিশন বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

থাইল্যান্ডের এই সভার ফাঁকে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নিয়মিত আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি আর্থিক চাপ সামাল দিতে বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জ্বালানি ব্যয় মেটাতে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান যে অংশীদারত্ব কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এই আলোচনা দেশের অর্থনীতির স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। পরবর্তীতে ঢাকায় আইএমএফ মিশন আসার পর ঋণ ও সংস্কারের শর্ত নিয়ে চূড়ান্ত ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোয় গুরুত্ব

আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত ধাপে ধাপে পূরণ করতে চায় সরকার

প্রকাশিত ১২:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে নির্ধারিত সংস্কারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে চায় বর্তমান সরকার। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। সভায় যোগ দেওয়া অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জনগণের দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

আইএমএফের ঋণের শর্তগুলোর বড় একটি অংশে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের পাশাপাশি জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কমিয়ে বাজারমূল্যে সরবরাহ করার চাপ থাকে। এছাড়া কর ছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কর আরোপেরও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এর আগে আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি করা হয়।

নতুন সরকারের আমলে আগের ঋণ চুক্তি থেকে বেরিয়ে নতুন ঋণ গ্রহণের জন্য আইএমএফের কাছে প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় তিন বছরে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা চলছে। গত জুন মাসে আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের নতুন ঋণ পাওয়ার আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। ঋণের শর্ত চূড়ান্ত করতে অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা মূল্যায়ন করতে একটি মিশন বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

থাইল্যান্ডের এই সভার ফাঁকে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নিয়মিত আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি আর্থিক চাপ সামাল দিতে বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জ্বালানি ব্যয় মেটাতে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান যে অংশীদারত্ব কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এই আলোচনা দেশের অর্থনীতির স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। পরবর্তীতে ঢাকায় আইএমএফ মিশন আসার পর ঋণ ও সংস্কারের শর্ত নিয়ে চূড়ান্ত ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।